ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শ্রমিক অসন্তোষ: সরকার ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসার তাগিদ রাজনীতিবিদদের


November 3, 2026 11:25 pm
Link Copied!


৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গত তিন দিন ধরে আন্দোলনে রয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন তারা। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে গত ১ নভেম্বর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬) এর ১৩৮ ধারার ৩(ক) ও ৩(খ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং ১৩৯ ধারায় নির্ধারিত কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস শিল্পের জন্য এ বোর্ড গঠন করা হয়।

তবে বোর্ডের সভা কবে হবে, এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। এসব কারণে এক ধরনের ক্ষুব্ধ মনোভাব থেকেই রাজপথে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক পোশাক শ্রমিক।

তাদের ধারণা, আগামী ডিসেম্বর থেকেই শ্রমিকদের বেতন বাড়ার কথা। কিন্তু সরকার বিলম্বে বৈঠক করলে এ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার–আশুলিয়া এবং ঢাকার মিরপুরেও দফায় দফায় উত্তেজনায় জড়িয়েছে। সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হচ্ছে। মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে ব্যাহত হয় মেট্রোরেল চলাচল।

এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ শিল্প-কারখানা বন্ধ ও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে একই অভিযোগ এনেছে সরকার ও বিরোধী দল। গত ১ নভেম্বর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।

অপরদিকে ২ নভেম্বর প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজদের উসকানি থাকতে পারে। পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিবিদরা। কেউ কেউ বলছেন, এতে রাজনৈতিক অপশক্তির ইন্ধন আছে। আবার কারও অভিযোগ সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। তবে সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে বসার তাগিদ দিয়েছে রাজনীতিকদের  কেউ কেউ।

বিদেশি  শক্তির ইন্ধনও থাকতে পারে: শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে সরকারের খুব বেশি দূরত্ব নেই।এ জন্যই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আরও কিছু প্রক্রিয়া থাকে। বোর্ডের বৈঠক হতেও তো কমপক্ষে এক-দুই মাস সময়ে প্রয়োজন। কিন্তু এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ শুরু হয়েছে।’

এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে, জানতে চাইলে দুদু বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে আটক নাশকতাকারীদের দেখা গেছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতির নেপথ্যে বিদেশি শক্তির ইন্ধনও থাকতে পারে।তবে এ মুহূর্তে কেউ যেন ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অবৈধ স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার-মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সতর্ক থাকতে হবে।’

উত্তেজনা ছড়িয়েছে সরকার ও বিজিএমইএ’র সিদ্ধান্তহীনতায়: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১৫-১৬ হাজার টাকা দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার নির্বাহ করা কঠিন। আর ৩০ হাজার টাকা দিয়েও অনেকের পরিপূর্ণ চলে না। তাই সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। তবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সরকার ও বিজিএমইএর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। সরকার মূল উদ্যোগে না নিয়ে বিলম্ব করে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এপার-ওপারের ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। তবে সরকারে উচিত শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে দেখা। এটা ঠিক যে, আমাদের দেশে ঘর পোড়ার মাঝে কিছু লোক আলু পোড়া দিতে চেষ্টা করে। তাই চলমান শ্রমিক আন্দোলনেকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ ইস্যু তৈরি করতে পারে। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এক টেবিলে বসতে পারে সরকার।’

সংকটে অপশক্তি সুযোগ নিতে পারে: প্রিন্স

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘সরকার ও বিজিএমই যথাসময়ে ন্যায্য ভূমিকা না নেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।’

তিনি জানান,  শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নিয়ম। সে হিসেবে আগামী ডিসেম্বর থেকেই শ্রমিকদের বেতন বাড়ার কথা। সরকারের উচিত ছিল— আরও অনেক আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মজুরি বোর্ড গঠনের পর মজুরি নির্ধারণে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগে। অথচ অক্টোবর পার হয়ে নভেম্বর চলে এসেছে। এতে করে ডিসেম্বর থেকে বেতন বাড়বে কি না, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আয় কমেছে এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার ও বিজিএমই আরও আগে এ বিষয়ে ঘোষণা দিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সংকটে অপশক্তি সুযোগ নিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মজুরি বোর্ড গঠনের সময় সরকার যদি স্পষ্ট করে বলতো যে ডিসেম্বর থেকেই নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হবে এবং জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের বেতন বর্ধিত হারে দেওয়া হবে, তাহলে অনেক সংকটের সমাধান হয়ে যেত। এ ছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষের আরও কারণ রয়েছে। তাদের বেতন কম, কর্মপরিবেশও সুষ্ঠু নয়। নারী শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে নিগ্রহের শিকার হন। এসব বিষয়েও সরকারের ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের অনেককে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হয়, যাতে তারা অন্য কোথাও চাকরি নিতে না পারেন। এটি বেআইনি এবং তাদের কাজের অধিকার খর্ব করার শামিল। এসব অসন্তোষ দূর করতে সরকার যথাসময়ে ভূমিকা না নেওয়ায় আজকের সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রিন্স বলেন, ‘‘সংকটে অপশক্তি সুযোগ নিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কেউ যদি আন্দোলনে ইন্ধন দিয়ে থাকে, সরকার তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে আমরা আন্দোলন চাই, ভাঙচুর চাই না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রথমত, আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেফতার শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে। একইসঙ্গে সরকারকে এখনই ঘোষণা দিতে হবে যে, মজুরি বোর্ড দ্রুত বসবে এবং আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন ন্যূনতম মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। আমার ধারণা, এমন ঘোষণা দিলেই শ্রমিকদের অসন্তোষ অনেকটাই দূর হবে।’’

তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে শিল্প ও শ্রমিক উভয়কেই রক্ষা করা। বেতন বাড়লে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। এ জন্য সরকার ও বিজিএমইর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারখানা বন্ধ হওয়া নিয়ে নানা কথা বলা হলেও বাস্তবে আমাদের উৎপাদন রফতানি ও আয় কমেনি। এই আয় যেন শুধু মালিকদের কাছে কুক্ষিগত না থাকে, শ্রমিকরাও যেন তাদের ন্যায্য হিস্যা পান, সে বিষয়ে সরকার ও বিজিএমইকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। তাহলেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব।’

দ্রুত যৌক্তিক বেতন স্কেল ঘোষণা করলেই আপাতত সমাধান সম্ভব: মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পর্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার নবম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে আমরা ধারণা করছিলাম দেশের অন‍্যান‍্য শ্রমজীবী-পেশাজীবীদের বেতন বৃদ্ধির জোরালো দাবি উঠবে। সুতরাং, সে প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের দাবি যথেষ্ট যৌক্তিক। তবে এ আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে যে ষড়যন্ত্র আছে, তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সেজন্য সাধুবাদ। এখন দ্রুত একটা যৌক্তিক বেতন স্কেল ঘোষণা করলেই আপাতত সমাধান সম্ভব বলে মনে করি।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html