ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প: তৈরি পোশাকে শুল্ক কমার সম্ভাবনা কতটা?


November 4, 2026 7:50 pm
Link Copied!


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে দেশটির কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে হারানোয় বাণিজ্যনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতেও। বিশেষ করে নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বাণিজ্যনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরলে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা পেতে পারে। তবে বিদ্যমান বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক শিগগিরই প্রত্যাহারের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, কংগ্রেসের দুই কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এখনও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে কংগ্রেসে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেই বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে শুল্ক কমে যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

তিনি মনে করেন, ২০২৭ সালের জন্য রফতানি আদেশ নেওয়া এবং মূল্য নির্ধারণের সময় বাংলাদেশের রফতানিকারকদের বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

আর বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই বাংলাদেশের পোশাকপণ্যের ওপর শুল্ক কমে যাবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কারণ উল্লেখ করে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুল্কনীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন। তবে কংগ্রেসে ক্ষমতার নতুন ভারসাম্য তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রশাসনের ওপর তদারকিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।’

শুল্ক কমার পথ এখনও কঠিন

বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আমদানি শুল্কের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাল্টা শুল্ক বাতিল এবং অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য শিগগিরই শুল্কমুক্ত সুবিধা ফিরে পাওয়ার আশা করা কঠিন। কারণ, বর্তমান শুল্কব্যবস্থার সঙ্গে কংগ্রেসের আগে দেওয়া নির্বাহী ক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও প্রেসিডেন্ট এককভাবে কিছু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনী প্রচারে শুল্কনীতির বিরোধিতা করেছে। যেসব বাণিজ্যিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, সেগুলো পাস করানো এখন তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ঘোষিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাকপণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই সুবিধার পরিমাণ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানির ওপর। ফলে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে শুল্ক কমার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না।

নীতি স্থিতিশীল হলে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অর্ডার, মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। বিশেষ করে কম দামের মৌলিক পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ ধরনের অনিশ্চয়তার প্রভাব বেশি অনুভব করে।

মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি স্থিতিশীল হলে ক্রেতারা আগেভাগে অর্ডার পরিকল্পনা করতে পারবেন। এতে বাংলাদেশের মতো সরবরাহকারী দেশ সুবিধা পেতে পারে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে যে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধা রয়েছে, সেটিও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

এই সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানি করলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীরা উপকৃত হন। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের সঙ্গেও বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে এ সুবিধার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে শুধু বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়, প্রচলিত আমদানি শুল্ক বহাল থাকে। নির্দিষ্ট পরিমাণের কোটা রয়েছে এবং সুবিধাটির মেয়াদ তিন বছর।

শ্রম অধিকার ও কাঁচামালের উৎস নিয়ে বাড়বে নজরদারি

বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে শ্রম অধিকার ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত তুলাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়তে পারে। বিশেষ করে জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে আরোপিত শুল্কের বিরোধিতা করা ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে। ফলে এ ধরনের শুল্ক বহাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, শ্রম অধিকারসংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা হারিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোকে শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে তুলা ও সুতা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে; এসব তথ্য যাচাইযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।

ইউএসটিআরের তদন্ত বড় ঝুঁকি

কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে বাণিজ্যনীতি নিয়ে মতবিরোধ বাড়লে প্রেসিডেন্ট প্রশাসন নিজস্ব নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারে আরও সক্রিয় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে চলমান তদন্ত।

এই তদন্তে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হলেও নির্বাহী ক্ষমতাবলে নেওয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যাবে না।

যুদ্ধের প্রভাবেও বাড়ছে রফতানি ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

তথ্য বলছে , যুদ্ধঝুঁকির কারণে প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। কংগ্রেস যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারলে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা ফিরলে পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্যের দাম কমানোর চাপ বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে রয়েছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশটির বাজারে পোশাকের চাহিদা এবং ক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের প্রবণতা।

রফতানিকারকদের প্রস্তুতি কী হওয়া উচিত

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকদের জন্য অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম সুতা ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, কাঁচামালের উৎস সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ এবং শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবসা ধরে রাখতে এখন শুধু কম দামে পোশাক উৎপাদন করলেই চলবে না। উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, শ্রমিকদের অধিকার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল বাংলাদেশের পোশাক রফতানির জন্য কিছু সম্ভাবনা তৈরি করলেও বিদ্যমান শুল্ক পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। বরং নতুন শুল্কের ঝুঁকি মোকাবিলা, শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এবং কাঁচামালের উৎসের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আগামী দিনের রফতানি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার প্রধান শর্ত হয়ে উঠছে।

অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, এ সুবিধা কাজে লাগাতে সরকারকে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য রফতানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব শর্ত পূরণে রফতানিকারকদেরও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html