ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন কোন পথে


November 4, 2026 2:00 am
Link Copied!


ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন কোন পথে যাচ্ছে, তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে না পেরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে আন্দোলন ঘিরে ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধে অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাও করছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা।

শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে গত রবিবার (১ নভেম্বর) ছয় সদস্যের নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। কিন্তু বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের বিক্ষোভ থামেনি। বরং মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলের ৬৭৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় কর্মরত ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক কাজ না করেই বাড়ি ফিরে যান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টা পর্যন্ত আরও ৩০৬টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় প্রায় সাত লাখ শ্রমিক কর্মরত। ফলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব এখন শুধু রাজপথে নয়, সরাসরি উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমেও পড়তে শুরু করেছে।

কারখানা বন্ধের চিন্তা মালিকদের

শ্রমিক অসন্তোষ, কর্মবিরতি ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বিগ্ন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ’র কার্যালয়ে বর্তমান ও সাবেক নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ উদ্যোক্তা বৈঠক করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে চলমান পরিস্থিতিতে কারখানার নিরাপত্তা, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনে কারখানা বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানোর কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা হয়নি।

এর আগে রবিবার বিজিএমইএ’র জরুরি সভায় শ্রমিকেরা কাজে ফিরে না এলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন উদ্যোক্তা সোমবার থেকেই কারখানা বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মালিক উৎপাদন চালু রাখার পক্ষে ছিলেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে মালিকপক্ষের প্রতিষ্ঠান বা তার কোনো অংশ বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বন্ধ থাকা সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়ার বিধান রয়েছে। পোশাকশিল্পের মালিকদের আলোচনায় এই ধারার প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ পরিস্থিতির অবনতি হলে ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নীতিতে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এর আগে বলেছিলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরে যাবেন বলে তারা আশা করছেন। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে সেটিকে ভিন্ন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

মজুরি বোর্ড গঠন, কিন্তু সভা কবে

শ্রমিকদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি— ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রম মন্ত্রণালয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যথাক্রমে এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাবুল আখতার। এ ছাড়া বোর্ডে স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছেন আসিফ আইয়ুব ও আনোয়ার হোসাইন এবং নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

তবে বোর্ড গঠনের পরও প্রথম সভার তারিখ নির্ধারণ না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান অবশ্য জানিয়েছেন, দ্রুত সভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে এবং আগেরবারের মতো দীর্ঘ সময় নেওয়া হবে না।

মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতারও দ্রুত সভা ডেকে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, দ্রুত কাজ শেষ করা গেলে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘মজুরি নিয়ে এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষের অসহযোগিতার কোনো তথ্য তার জানা নেই। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছরের মধ্যে মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে একমত হয়েছে।’’

তিনি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা সম্ভব হলে জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা নতুন বেতন পেতে পারেন। এতে মালিকদের আর্থিক চাপ তৈরি হলেও তারা বিষয়টি মেনে নেওয়ার অবস্থানে রয়েছেন। তবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ কোনোভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না।’

শ্রমিকদের দাবি আশ্বাস নয়, মজুরি ঘোষণা চাই

শ্রমিকদের বক্তব্য, মজুরি বোর্ড গঠন করাই তাদের দাবির সমাধান নয়। তারা দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা চান।

মিরপুরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক শোয়েব ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। নাশকতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা নিজেদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন। কোনো শ্রমিক অন্যায়ভাবে গ্রেফতার বা হয়রানির শিকার হলে তারা তারও প্রতিবাদ করবেন।

শেফালী বেগম নামে আরেক নারী শ্রমিক বলেন, শুধু আশ্বাস দিয়ে আর তাদের কাজে ফেরানো যাবে না। মজুরি বৃদ্ধির ঘোষণা দিতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে অন্যায়ভাবে আটক শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বেতনে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম সামাল দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে তারা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানাচ্ছেন।

উসকানি ও তৃতীয় পক্ষের অভিযোগ

শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও রাজনৈতিক উসকানির অভিযোগ তুলেছে পুলিশ ও শ্রমিকনেতাদের একটি অংশ। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কেউ পোশাকশ্রমিক নন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনও অভিযোগ করেছেন, বোরকা পরিহিত ও হেলমেটধারী একটি গোষ্ঠী শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে। তাদের অর্থের জোগানদাতাদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

শ্রমিক নেতাদের একাংশও আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। তবে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ ফায়দা লুটতে চাইছে। তিনি শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তারও বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই শ্রমিকদের শান্ত থেকে কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। একই সঙ্গে দ্রুত মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উৎপাদন ও রফতানি নিয়ে উদ্বেগ

শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান পোশাকশিল্প অঞ্চলগুলোতে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১৬১টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকায় বন্ধ ছিল ৯৩টি এবং রাজধানীর মিরপুরে ৫২টি কারখানা। বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে ওই সময় চালু ছিল ১ হাজার ৮২৮টি।

অন্যদিকে গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনকে।

সব মিলিয়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ন্যায্য দাবি, মালিকদের উৎপাদন সচল রাখার উদ্বেগ এবং আন্দোলনে সহিংসতা ও তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ— তিনটি বিষয় এখন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও দ্রুত সভা না হওয়া এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কাটছে না।

এ অবস্থায় শ্রমিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু, আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য মজুরি নির্ধারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায়, আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, কারখানার উৎপাদন এবং দেশের প্রধান রফতানি খাত— তিনটিই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html