ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি: বাজারে গেলে সিলিন্ডারপ্রতি দিতে হয় ৫০০ টাকা বেশি


November 4, 2026 3:35 pm
Link Copied!


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দফায় দফায় বাড়লেও নির্ধারিত দামে মিলছে না সিলিন্ডার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। অপরদিকে বিক্রেতারাও বলছেন, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাদের। এর সঙ্গে রয়েছে সরবরাহ সংকট। সব মিলিয়ে এলপিজি কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। 

সোমবার (২ নভেম্বর) তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটের মধ্যেই আবারও দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর একই পরিমাণ সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। দফায় দফায় এই দাম বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। 

নতুন নির্ধারিত দাম সোমবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি। সে অনুযায়ী নতুন দামে সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু ১২ কেজি নয়, ৫ থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত সব ধরনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের ২ ও ৬ নম্বর এবং আগারগাঁও এলাকা ঘুরে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রেতা, ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, দফায় দফায় দাম বাড়ায় বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাসায় রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করেন খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আহমেদ সোহেল। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে আমাদের তিনজনের পরিবার। ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার কিনি প্রতি মাসে। একমাস চলে যায়। কিন্তু এর দামতো প্রতিনিয়তই বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে হলেতো চলা মুশকিল। তার ওপর সরকার যে দাম নির্ধারণ করে সেই দামেও কেনা যায় না। কিনতে হয় চার পাঁচশো টাকা বেশি দিয়ে। যখন গ্যাসের দাম ১৮০০ টাকার মতো ছিল তখন কিনেছি ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। আর এখনতো সরকারই করে দিয়েছে দুই হাজার টাকার বেশি; এখনতো তাহলে কিনতে হবে আড়াই হাজার টাকার বেশি দিয়ে। সবকিছুরই যদি এভাবে দাম বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের জীবন যে আসলে কীভাবে যাবে আমি বুঝতে পারি না।’

মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় হোটেল ব্যবসা করে মো. শহিদুল ইসলাম। হোটেলের রান্নার কাজে ব্যবহার করেন এলপিজি সিলিন্ডার। তিনি ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার ব্যবহার করে থাকেন। 

তিনি বলেন, ‘১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার আগে যখন সরকারি নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৮৫০ টাকার মতো তখনও আমাদের ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এখন সরকারি দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমার ধারণা, বিক্রেতারা এখন আরও বেশি দাম নেবে। দাম বাড়ার পরে এখনও কেনা লাগেনি তাই বলতে পারছি না কত করে রাখে।’  

এসময় তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে গ্যাস আনি না, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনি। তাই সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়েই আমাদের কিনতে হয়।’ 

শহিদুল বলেন, ‘আমার দুটি চুলা রয়েছে। দুইটা চুলায় দুইটা সিলন্ডার থাকে। একটি রুটি তৈরির জন্য, অন্যটি পরোটা তৈরির জন্য। তিন দিন পরপর দুটি সিলিন্ডার লাগে। এখনতো গ্যাসের দাম বাড়ছেই। আবার এর সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ, বিশেষ করে ময়দার দামও বেড়েছে। সবকিছুর দাম বাড়ায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন ১০ টাকা করে একটি পরোটা বিক্রি করি। কিন্তু বর্তমান খরচে ১০ টাকায় পরোটা বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। হয় দাম বাড়াতে হবে, নয়তো ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে একসময় হোটেলই বন্ধ করে দিতে হতে পারে। আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এত বেশি দামে গ্যাস কেনা কঠিন। আগে সরকারি দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে। এখন সরকারি দাম আরও বাড়িয়েছে। বিক্রেতারা এখন আরও বেশি দাম নেবে।’ 

আগারগাঁও এলাকায় চা বিক্রি করেন ফখরুদ্দীন। সিলিন্ডার গ্যাস তার ব্যবসার ভরসা। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এই সিলিন্ডার দিয়ে ১১ থেকে ১৩ দিন চলে। এখন আবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে যখন কিনেছি, তখন সরকারি নির্ধারিত দাম কত ছিল, তা মনে নেই। এখন সরকার আবার দাম বাড়িয়েছে, সিলিন্ডাওয়ালারাও (বিক্রেতা) দাম বাড়াবে। এবার ২ হাজার ৫০০ টাকার মতো দাম চাইবে।’ 

তিনি বলেন, ‘এভাবে দাম বাড়লে ব্যবসায় সমস্যা হবে। তারপরও ব্যবসা চালাতে হবে। এখন কী করার আছে… একটিতে লোকসান হলে অন্যটি দিয়ে তা পুষিয়ে নিয়ে হবে। কিন্তু চায়ের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে কাস্টমার খেতে চাইবেন না। তাই অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেই গ্যাসের বাড়তি খরচ পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আরতো কিছু করার দেখছি না।’  

এলপিজি সিলিন্ডার দাম বেড়ে যাওয়া ও বেচাকেনা প্রসঙ্গে মিরপুর ৬ নম্বরের সাফোয়ান এন্টারপ্রাইজের তরলীকৃত গ্যাসের বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, ‘বর্তমানে আমার কাছে সবই ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এগুলোই বিক্রি করছি। আমার কাছে পেট্রোম্যাক্স, ইউনি গ্যাস ও আই গ্যাস আছে। আরও অনেক কোম্পানির সিলিন্ডার আছে; বসুন্ধরার, বেক্সিমকোর, তীর কোম্পানীর…। কিন্তু আমার কাছে এখন ওগুলো নাই।’ 

তিনি বলেন, ‘পেট্রোম্যাক্সের ১২ কেজির গ্যাসসহ সিলিন্ডার ৪ হাজার টাকা এবং অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাসসহ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তবে কোম্পানিভেদে গ্যাস ও বোতলের দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পেট্রোম্যাক্সের বোতলটা ভালো তাই দাম বেশি। আর গ্যাস রিফিল করার ক্ষেত্রে ইউনি গ্যাসের ১২ কেজির দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে পেট্রোম্যাক্স ও আই গ্যাসের দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা।’ 

মামুন বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি সিলিন্ডার কিনতেই ২ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তাহলে আমরা কীভাবে বিক্রি করবো? ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু কাস্টমার বেশি দাম শুনলে আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করেন। বলে যে, গ্যাসের দাম ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছি।’  

গ্যাসের দাম বাড়াতে ব্যবসা চলানো কঠিন হয়ে পড়ছে জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘কাস্টমার খালি বোতল ফেরত দিয়ে যায়। এতে বোতল নিয়ে নতুন করে ঝামেলা তৈরি হয়। কোম্পানিভেদে বোতলেরও আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এক কোম্পানির বোতল দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়া বা বিনিময় করা যায় না। এ কারণে ক্রেতাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হয়। আমি চাই না ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে। এখন মালামাল কম পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে গ্যাস বিক্রি করতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঝগড়া করতে হতো। এ কারণে একসময় ব্যবসা ছেড়ে চাকরি নিয়েছিলাম। তারপর আবার ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু এখন আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’  





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html