বর্ষার দিনে তাপমাত্রার চেয়ে বেশি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা। এ সময় অনেকেই ঘর ঠান্ডা রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চালান, ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যায়। তবে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ঘর থাকবে আরামদায়ক, কমবে বিদ্যুৎ খরচও।
বর্ষায় কেন ‘ড্রাই মোড’ ব্যবহার করবেন
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম আর বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য হলো আর্দ্রতা। বর্ষাকালে এসির ‘ড্রাই মোড’ ব্যবহার করলে ঘরের অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প কমে যায়। এতে ঘর দ্রুত শুষ্ক ও আরামদায়ক অনুভূত হয়, যদিও তাপমাত্রা খুব বেশি কমে না।
ড্রাই মোডে এসি বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে পানি হিসেবে বের করে দেয়। ফলে শরীরের চটচটে ভাব ও অস্বস্তি কমে যায়, একই সঙ্গে কম্প্রেসরের ওপর চাপও তুলনামূলক কম পড়ে।
তাপমাত্রা ও আরাম: এই মোড ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি না কমালেও বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা এক ধাক্কায় কমিয়ে দেয়। ফলে ২৬ বা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালেও ঘর বেশ শুষ্ক ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার অস্বস্তি দূর হয়।
স্বাস্থ্যগত সুবিধা: বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ঘরে অ্যালার্জি, সাইনাস কিংবা হাঁপানির (অ্যাজমা) মতো স্বাস্থ্য সমস্যাও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিদ্যুৎ বিল কমানোর কার্যকর উপায়
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে বা ভ্যাপসা গুমোট আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ: বর্ষার দিনে এসি ২৬ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে চালান। এতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
ফ্যানের গতি রাখুন মাঝারি: ড্রাই মোড চালুর পাশাপাশি এসির ভেতরের ফ্যানের গতি বাড়িয়ে রাখা যাবে না। ফ্যানের স্পিড মাঝারি অথবা ‘অটো’তে রাখতে পারেন।
সিলিং ফ্যানের ব্যবহার: ঘর কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে জানলা-কপাট ভালোভাবে বন্ধ করে কম গতিতে সিলিং ফ্যান ছেড়ে দিতে পারেন। এতে এসির ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস ঘরের প্রতিটি কোনায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
ফিল্টার পরিষ্কার রাখা: এসির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন পর পর এর ফিল্টার পরিষ্কার করা জরুরি। ফিল্টারে ধুলাবালি জমে থাকলে ড্রাই মোডে দিলেও আশানুরূপ ঠান্ডা বা আরাম পাওয়া যাবে না, উল্টো বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে।
ঘরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অ্যালার্জি, সাইনাস ও অ্যাজমার মতো সমস্যার ঝুঁকিও কিছুটা কমে। ফলে বর্ষাকালে ড্রাই মোড শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই নয়, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতেও সহায়ক।
বর্ষার গুমোট আবহাওয়ায় এসির রিমোটে থাকা পানির ফোঁটা চিহ্নযুক্ত ‘ড্রাই মোড’ ব্যবহার করলে কম খরচে বেশি স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। তাই এই মৌসুমে কুল মোডের বদলে ড্রাই মোডকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।