পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক তরুণীকে (১৮) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও তার মামিকে (৪০) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা। এতে তিন যুবকের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলো—দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানার মো. পারভেজ (২০), মো. রাসেল ইসলাম (২২) ও বিশ্বজিৎ (২১)।
ভুক্তভোগী দুজন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। তাদের বাড়ি গ্রামের নির্জন এলাকায়। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে তারা বরাদ্দ পাওয়া ঘরেও বসবাস করেন। তাদের বাড়িতে সম্প্রতি তরুণীর মামি বেড়াতে আসেন। গত রবিবার বিকালে তারা দুজন পাশের এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যান। সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে গ্রামের বাড়িটিতে ফেরেন। এর আগেই ওই তরুণীর বাবা-মা বাড়ির বাইরের টিনের দরজায় তালা দিয়ে পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। তারা তালা দেওয়া বাড়ির সামনে থাকা অবস্থায় একজন অচেনা মানুষকে দেখতে পান। এ সময় তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে যেতে ওই ব্যক্তির কাছে একটি ভ্যান ভাড়া করে দেওয়ার সহায়তা চান। তখন ওই ব্যক্তি সামনের দিকে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে ওই ব্যক্তি একটি ব্যটারিচালিত ভ্যানে করে আরও পাঁচ জনকে নিয়ে সেখানে আসে। এ সময় তাদের মধ্যে তিন জন ঘরের বেড়া খুলে ওই তরুণীকে ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন জন ধর্ষণ করে। একই সময় অপর তিন জন ওই তরুণীর মামিকে ব্যটারিচালিত ভ্যানে তুলে পাশের করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন জন মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী (মামি) পালিয়ে আসেন।
রাত সোয়া ১টার দিকে ওই নারী (মামি) তার ভাগনির বাড়ির সামনে যান। তখন সেখান থেকে তিন জন পালিয়ে যায়। সোমবার ভোরে তারা দুজন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি জানান। প্রথমে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সোমবার রাতে তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, ভুক্তভোগীরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
সিভিল সার্জন ও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।