ফরাসি রিভিয়েরা অঞ্চলের ছোট্ট শহর কান। প্রতি বছর মে মাস এলেই সেখানে জড়ো হন বিশ্বের নামী চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা, প্রযোজক ও সমালোচকেরা। কান ফিল্ম ফেস্টিভালের রেড কার্পেট মানেই সিনেমা জগতের গ্ল্যামারের প্রদর্শনী। তবে এ বছর একই মঞ্চে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে। প্রশ্ন হলো— বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কী করছেন?
গত ১২ মে থেকে শুরু হয়েছে ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসব, চলবে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত। এ বছর ভারতীয় ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের অনেককেই দেখা গেছে কানের রেড কার্পেটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইনফ্লুয়েন্সার, ফ্যাশন সমালোচক, নৃত্যশিল্পী, শেফ ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে দলটি কানে পৌঁছানোর পেছনে কাজ করেছে উৎসবের অফিসিয়াল পার্টনার ‘ব্রুট ইন্ডিয়া’।
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যে কয়জন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবছর কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কাপেটে হাঁটছেন, তাদের মধ্যে একজন নিরঞ্জন মণ্ডল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘লাফটারসেন’ নামেই বেশি পরিচিত। ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিনের চেনা বাঙালি সংস্কৃতি ও পারিবারিক চালচিত্রকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার ভক্ত তৈরি হয়েছে নিরঞ্জনের। এতদিন ঘিঞ্জি শোবারঘর, কোলাহলপূর্ণ বারান্দা কিংবা বসার ঘরের মধ্যবিত্ত হট্টগোলের মধ্যে যাকে ভিডিও শুট করতে দেখেছে জেন-জি প্রজন্ম, সেই চিরচেনা নিরঞ্জনকে কানের লালগালিচায় হাঁটতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একে ইন্টারনেটের ‘সাফল্যের চূড়ান্ত মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।
শনিবার ইনস্টাগ্রামে কানের লালগালিচায় অভিষেকের খবরটি জানিয়ে নিরঞ্জন লিখেছেন, ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমাদের অভিষেক হতে যাচ্ছে… মনে হচ্ছে একটা স্বপ্ন সত্যি হলো।’ খবরটি শেয়ার করার পরপরই স্বস্তিকা দত্ত, ঊষসী রায় এবং পার্নো মিত্রের মতো জনপ্রিয় তারকা ও সহ-কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসে যান তিনি।
নিরঞ্জন ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের যে ক্রিয়েটররা এবার কানে আলো ছড়াচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন রিদা থারানা, দিশা মদন, কৃতিকা (দ্য মারমেইড স্কেলস), ইশিতা মঙ্গলা ও রুপিন্দর কৌর গিল (রুপি গিল)।
এ ছাড়া নাচের জগৎ থেকে নিধি কুমার, লাইফস্টাইল ও বিউটি ক্রিয়েটর স্মৃতি খান্না, ঈশানি মিত্র ও পবিত্রা কৌর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরেছেন। শুধু ক্রিয়েটর নন, স্নেহা খানাল ও ভূপেন্দ্র খানালের মতো উদ্যোক্তারাও তাদের কোম্পানি ডগসি চিউ-এর মাধ্যমে কানে অংশ নিয়েছেন।
সশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবর্তনটা শুধু কানের নয়; বদলে গেছে পুরো মিডিয়া ইকোসিস্টেম। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ডিজিটাল ক্রিয়েটররা এখন ‘নতুন যুগের সেলিব্রিটি’, যাদের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত তারকাদের সমান, কখনও কখনও তার চেয়েও বেশি। বিশেষ করে তরুণ দর্শকদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বেড়েছে।
ফলে বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড, কসমেটিক কোম্পানি ও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন রেড কার্পেটকে শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও দেখছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম