ইরানের চলমান হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা রাখছে, তার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ ফেরত চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি অর্থ ফেরত চাই, কারণ আমরা বিশ্বের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ অঞ্চলকে সুরক্ষা দিচ্ছি। আমরা অর্থ ব্যয় করছি, তাই সুরক্ষার জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
এ সময় তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের নাম উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।
তবে উপসাগরীয় এসব দেশের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ তাদের সঙ্গে কোনও সমন্বয় না করে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে কী করা হবে সে সংক্রান্ত কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। এরপর থেকে এসব দেশকেই ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রধান শিকার হতে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের রক্ষার বিষয়ে বলেন, আমরা ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, আমিরাতসহ সব মিত্রদের রক্ষা করছি। আমরা তাদের সবাইকে সুরক্ষা দিচ্ছি এবং আমরা খুব কার্যকরভাবে এই কাজটি করেছি।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ট্রাম্পকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন- ইরানের সঙ্গে চলমান এই উত্তেজনা কতদিন ধরে চলতে পারে বলে তিনি আশা করছেন? জবাবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কঠোর আঘাত হানছে। তবে তার দাবি, বর্তমান দফার এই উত্তেজনা দ্রুত শেষ হবে।
ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহান্তে ইরান একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যা পরিস্থিতি শান্ত করার পথ তৈরি করতে পারত। কিন্তু পরবর্তীতে তারা চুক্তি থেকে সরে আসে। কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা জানতে পেরেছে যে চুক্তির মধ্যে এমন কিছু ছিল যা তারা পছন্দ করেনি।’
ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো আর সম্ভব নয় কি না এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, আমি কখনও এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। তবে আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুবই জোরালো হামলা চালাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, তারা কিছু সময়ের জন্য লড়াই করবে এবং দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।