ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেশি বয়সের প্রেম টেকসই হয় কীসে?


August 19, 2026 6:40 pm
Link Copied!


প্রেম-বিয়ে মানেই যেন তরুণ বয়স—আমাদের সমাজে এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। একটা বয়স পার হয়ে গেলে নতুন করে প্রেমে পড়া, বিয়ে করা কিংবা কারও সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেওয়ার কথা উঠলেই অনেকে অবাক হন।

কিন্তু জীবন তো সবসময় একই পথে চলে না।

কারও দীর্ঘদিনের বিয়ে ভেঙে যায়। কেউ সঙ্গীকে হারানোর পর বছরের পর বছর একা থাকেন। আবার জীবনের একটা পর্যায়ে এসে কারও সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ভালো লাগা—একসময় সেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেম বা বিয়েতে।

প্রশ্ন হলো, এই বয়সে তৈরি হওয়া সম্পর্ক কি সত্যিই টেকে? আর টিকলে তার রহস্যটাই বা কী?

মনোবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আলোচনায় দেখা যায়, বয়স বাড়ার পর নতুন সম্পর্কে শুধু প্রেম বা আকর্ষণই গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। বরং সঙ্গ, যত্ন, বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব এবং একে অপরের পাশে থাকার মানসিকতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৫০ পেরিয়েও প্রেম থেমে থাকে না

বয়স বাড়ার সঙ্গে ভালোবাসা বা সঙ্গীর প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়—বাস্তবতা এমন নয়।

২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের বেশি বয়সে বিচ্ছেদের পরও অনেকে নতুন সম্পর্কে জড়ান। বিচ্ছিন্ন পুরুষদের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং নারীদের ২২ শতাংশ পরবর্তী সময়ে নতুন সম্পর্কে গিয়েছেন।

তবে নতুন সম্পর্ক মানেই আবার বিয়ে—এমন নয়। অনেকে বিয়ের বদলে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।

অর্থাৎ বয়স বাড়লে মানুষ ভালোবাসা বা সঙ্গ চান না—এই ধারণা ঠিক নয়। বরং তখনও একজন ‘নিজের মানুষ’-এর প্রয়োজন থাকে। শুধু সেই প্রয়োজনের ধরন কিছুটা বদলে যায়।

বয়স বাড়লে প্রেমের হিসাবও বদলায়

তরুণ বয়সের প্রেমে উত্তেজনা, আকর্ষণ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন বড় জায়গা দখল করে থাকে।

কিন্তু জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আসার পর মানুষ সম্পর্ককে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেন।

তখন প্রশ্নটা হয়তো আর থাকে না—‘সে আমাকে কতটা রোমান্টিকভাবে ভালোবাসে?’

বরং প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়— ‘এই মানুষটার সঙ্গে থাকলে কি আমার জীবনটা ভালো লাগে?’ ‘আমি কি তার কাছে নিজের মতো থাকতে পারি?’ ‘কঠিন সময়ে সে কি আমার পাশে থাকবে?’

২০২২ সালের একটি গবেষণায় ৬৬ থেকে ৯২ বছর বয়সী নতুন সম্পর্কে থাকা ৩৮ দম্পতির সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তাদের কাছে ভালোবাসার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গভীর বন্ধুত্ব, মানসিক শান্তি এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ।

তখন ভালোবাসা মানে শুধু রোমান্স নয়

বয়সের সঙ্গে ভালোবাসা হারিয়ে যায় না। বরং তার প্রকাশ অনেক সময় বদলে যায়।

একসঙ্গে সকালে চা খাওয়া; কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা; ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় পাশে থাকা; ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়া; অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া; দিন শেষে নিজের কথা বলার মতো একজন মানুষ থাকা।

এসব ছোট ছোট বিষয়ই তখন সম্পর্কের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

তাই একটা বয়সের পরের প্রেম বাইরে থেকে খুব ‘রোমান্টিক’ মনে না হলেও, সেই সম্পর্কের ভেতরে থাকতে পারে গভীর টান।

একজন মানুষ তখন শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকা নন—হয়ে উঠতে পারেন বন্ধু, সঙ্গী এবং নির্ভরতার জায়গা।

আগের সম্পর্কের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগে

বয়সের পরে নতুন সম্পর্কে আসা মানুষ সাধারণত শূন্য হাতে আসেন না। সঙ্গে থাকে আগের জীবনের অভিজ্ঞতা।

আগের বিয়েতে কী ভুল হয়েছিল, কী ভালো ছিল, কোথায় কষ্ট পেয়েছেন—এসব অভিজ্ঞতা নতুন সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

তবে অতীত সবসময় বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না। কখনো সেটিই মানুষকে বুঝতে সাহায্য করে—এবার সে আসলে কী চায়।

আগের সম্পর্কে হয়তো নিজের কথা সবসময় বলতে পারেননি। এবার সেটা বলতে চান।

আগে হয়তো শুধু দায়িত্বকেই সম্পর্ক ভেবেছেন। এবার চান বন্ধুত্ব।

আগে হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে থেকেও একা লেগেছে। এবার এমন কাউকে চান, যার সঙ্গে সত্যিই কথা বলা যায়।

অর্থাৎ নতুন সম্পর্ক অনেক সময় অতীতকে মুছে ফেলার চেষ্টা নয়; বরং অতীত থেকে শেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে পথ চলা।

এই বয়সে ‘সঙ্গী’ শব্দটার গুরুত্ব বেশি

জীবনের একটা সময়ে এসে অনেক পুরোনো দায়িত্ব কমে যায়। সন্তান বড় হয়ে নিজের জীবনে ব্যস্ত। চাকরি শেষ। প্রতিদিনের ব্যস্ততাও আগের মতো নেই। তখন দিনের একটা বড় অংশ নিজের জন্য থাকে।

এই সময় একজন সঙ্গী থাকা মানে শুধু একই ছাদের নিচে থাকা নয়। বরং এমন একজন মানুষ থাকা, যার সঙ্গে দিনের গল্পটা ভাগ করে নেওয়া যায়।

সকালের নাশতা থেকে রাতের গল্প—সবকিছুতেই যার উপস্থিতি স্বস্তি দেয়।

হয়তো এ কারণেই বয়সের পরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গ বা বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে নতুন সম্পর্ক মানেই সব সহজ নয়

বয়স বাড়ার পর প্রেমে পড়লে কিছু বাড়তি বাস্তবতাও সামনে আসে।

আগের সংসারের সন্তান আছে। কারও নাতি-নাতনি আছে। বাড়ি, সম্পত্তি, অর্থনৈতিক দায়িত্ব—সবকিছু মিলিয়ে নতুন সম্পর্কটা শুধু দুজন মানুষের বিষয় থাকে না।

কোথায় থাকবেন?

আগের পরিবারের সঙ্গে নতুন সঙ্গীর সম্পর্ক কেমন হবে? অর্থনৈতিক বিষয়গুলো কীভাবে সামলাবেন? সন্তানরা কীভাবে বিষয়টি নেবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই পরিষ্কার না থাকলে নতুন সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে।

তাই শুধু ভালো লাগা থাকলেই হবে না। বাস্তব জীবনটাকেও একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা থাকতে হবে।

তাহলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে কী?

গবেষণা ও অভিজ্ঞতাগুলো মিলিয়ে একটা বিষয় বেশ পরিষ্কার—বয়সের পর নতুন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধু প্রেমে পড়াই যথেষ্ট নয়।

দুজনের মধ্যে থাকতে হয় বিশ্বাস, যত্ন, বন্ধুত্ব, সম্মান আর একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা।

একজন আরেকজনকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা না করে বুঝতে হবে।

অতীতের ভুল নিয়ে প্রতিদিন হিসাব না করে বর্তমানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দুজনেরই যেন মনে হয়, এই সম্পর্ক তাদের জীবনকে আরও ভালো করছে, ভারী করছে না।

বয়স কখনোই শেষ সীমা নয়

জীবনের একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়—এমন কোনও নিয়ম নেই। বরং বয়সের সঙ্গে মানুষ হয়তো প্রেমকে নতুনভাবে চিনতে শেখেন।

তখন সম্পর্ক মানে শুধু হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া নয়। কখনো সম্পর্ক মানে একজন মানুষকে পাশে পাওয়া। এমন একজন, যার সঙ্গে নীরবতাও অস্বস্তিকর লাগে না।

যার সঙ্গে একই গল্প বারবার বলা যায়। যিনি জানেন আপনার অতীত, তবু বর্তমান আপনাকেই বেছে নেন।

শেষ পর্যন্ত বয়সের পরে সফল একটি সম্পর্কের সৌন্দর্য হয়তো এখানেই— জীবনের অনেকটা পথ একা হেঁটে আসার পর এমন একজনকে পাওয়া, যার সঙ্গে বাকি পথটা আর একা হাঁটতে হয় না।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html