ত্বকের যত্নে শুধু বাইরে থেকে প্রসাধনী ব্যবহার করলেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিরও। ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে ভিটামিন কে ত্বকের পরিচর্যায় বেশ পরিচিত একটি উপাদান। চোখের নিচের কালচে ভাব, শুষ্কতা কিংবা বয়সের সঙ্গে দেখা দেওয়া ত্বকের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভিটামিন কে-সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা যায়।
সবুজ শাকসবজি ও কিছু তেলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন কে পাওয়া যায়। তাই খুব বেশি খরচ না করে রান্নাঘরের পরিচিত কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা সম্ভব সহজ ফেসপ্যাক।
ধনেপাতা দিয়ে সতেজতার প্যাক
ধনেপাতা শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, রূপচর্চাতেও এটি ব্যবহার করা যায়। দুই টেবিল চামচ ধনেপাতা বাটার সঙ্গে চার টেবিল চামচ দই মিশিয়ে নিন। এতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান।
প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দই ত্বককে কোমল রাখতে সাহায্য করতে পারে, আর ধনেপাতা দিতে পারে সতেজ অনুভূতি।
অলিভ অয়েল দিয়ে ময়েশ্চারাইজিং প্যাক
ত্বক যদি শুষ্ক ও নিষ্প্রভ দেখায়, তা হলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে একটি সহজ প্যাক তৈরি করতে পারেন। এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে আধা টেবিল চামচ মধু ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর একটি ডিমের সাদা অংশ দিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।
ব্রাশের সাহায্যে মুখে পাতলা করে প্যাকটি লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। পরে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
এ ছাড়া পালংশাক, ব্রোকলি, বাঁধাকপি ও অ্যাভোকাডোর মতো খাবারেও ভিটামিন কে রয়েছে। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি খাবারের তালিকায় এসব পুষ্টিকর উপাদান রাখাও ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে ঘরোয়া উপাদান বলে সবকিছু সরাসরি মুখে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে লেবুর রসের মতো উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নতুন কোনও প্যাক মুখে লাগানোর আগে হাতের ভেতরের দিকে অল্প পরিমাণে দিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। চুলকানি, জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সেটি মুখে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।