রাজধানীর খাল, লেক ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলোর সীমানা চিহ্নিত করতে পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এসব কমিটি কাজ করবে।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, রাজধানীর খাল, লেক ও জলাধারগুলো শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, নগরের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে খালগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে বৃষ্টির পানি প্রবাহের উপযোগী করে তুলতে হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, জনবল ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রথমেই সঠিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি। বিভিন্ন মানচিত্রে খালের সীমানার ভিন্নতা এবং একাধিক সংস্থার সম্পৃক্ততার কারণে কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাইশটেকি খাল এবং কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাজধানীর অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে।
সভায় রাজধানীর খাল খনন, পুনরুদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, খালগুলোর সীমানা নির্ধারণে গঠিত কমিটিগুলোতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, রাজউক, ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।