আজিজুল হক। পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর সিএনজি অটোরিকশা চালান। বাজেটে ঘোষণার দিন তারই সিএনজিতে বসে কথা হয়। বাজেট বোঝেন কিনা প্রশ্নে আজিজুলের সাফ জবাব, ‘বাজেট টাজেট বুঝি না, জিনিসপত্রের দাম কম থাকবো, খাইয়া-পইরা ভালো থাকমু, এটাই আমাগোর চাওয়া।’
তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু ড্রাইভার, আমার চাওয়া-পাওয়া কম। আমি চাই, সব জিনিষের দাম কম থাকবো। রাস্তা-ঘাট ভালো থাকবো, যানজট কম থাকবো, শান্তিতে সিএনজি চালামু। বউ-ছাওয়াল নিয়ে ভালো থাকমু, ঋণ-ধার করণ লাগবো না।’
আজিজুল হকের মতোই যারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তাদের বাজেট নিয়ে কোনও ভাবনাই নেই। তারা বোঝেন না বাজেট আসলে কী? তাদের প্রকৃত চাওয়া দ্রব্যমূল্য নাগালের মধ্যে থাকবে। দব্যমূল্য বাড়লো নাকি কমলো, বার্ষিক উন্নয়ন কী হবে সেটা তাদের মুখ্য বিষয় না। তারা শুধু বোঝেন বেঁচে থাকার লড়াই, খাবারের জন্য সংগ্রাম। রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজধানীর কাওরান বাজারের ফল বিক্রেতা সোহেল রানা। বাজেট বুঝেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আবার বাজেট কি? আমরা এগুলো বুঝি না। শুধু জিনিসপত্রের দাম কমলে আমরা ভালো থাকতে পারি। এটাই সরকারের কাছে চাওয়া।’
কাওরান বাজারের বিটিএমসি ভবনের নিচে কথা হয় দিনমজুর ইব্রাহিমের সঙ্গে। তিনি কাওরান বাজারে বিভিন্ন আড়তে কাজ করেন। থাকেন কাওরান বাজার রেলক্রসিংয়ের পূর্বপাশে বস্তির মতো গড়ে ওঠা টিনশেড বাড়ির এক রুমে। স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে তার।
ইব্রাহিম জানায়, ‘দ্যাশ নিয়্যা ভাইব্যা কি হবে, দ্যাশ নিয়্যা ভাবনের অনেক লোক আছে। আমাগোর ভাবনা শুধু প্যাট। আমাগোর প্যাট শান্তি তো দুনিয়া শান্তি।’