চট্টগ্রাম নগরের বিশ্ব কলোনির একটি ফ্ল্যাট থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক নারীকে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অনৈতিক কাজ, মারধর, চুরি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আকবর শাহ থানায় মামলাটি করেন এক প্রবাসীর ভাই। মামলার আসামিরা হলেন ডিএমপির ওয়ারী থানার এসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) ও ওই নারী (৩৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে নগরের আকবর শাহ থানার বিশ্ব কলোনির আই-ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে ওই দুজনকে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আকবর শাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার তাদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ও ওই নারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ, মারধর, চুরি ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি হয়েছে। মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত।’
আকবর শাহ থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ‘ওই নারী আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। আমার বড় ভাই ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। নুরুন্নবী আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ভাবীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।’
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুন্নবী ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ভাবীর সঙ্গে রাতযাপন করেন। বিষয়টি আমার ভাই প্রবাস থেকে জানালে ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই বাসায় গিয়ে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী আমার ভাবীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে আকবর শাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের হাতে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আমার ভাবী ও নুরুন্নবী আমার ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা বাসা থেকে সরিয়ে ফেলেন।
এ প্রসঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্যসহ দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠালে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’