চুলের যত্নে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার কিংবা হেয়ার ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি পানির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যে এলাকায় পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজের পরিমাণ বেশি, সেখানে নিয়মিত সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে চুলের গঠন ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ কারণেই শক্ত পানির সমস্যা থেকে চুলকে সুরক্ষিত রাখতে বাজারে এসেছে নানা ধরনের শাওয়ার ফিল্টার ও বিশেষায়িত হেয়ার কেয়ার পণ্য। তবে প্রশ্ন হলো, শক্ত পানি কি সত্যিই চুলের ক্ষতি করে?
ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের ডার্মাটোলজিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ডেসমন্ড টবিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শক্ত পানিতে দ্রবীভূত খনিজের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এ ধরনের পানিতে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। মাটি ও পাথরের স্তরের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় এসব খনিজ পানিতে মিশে যায়। পরে সেই পানি কল দিয়ে বের হলেও খনিজগুলো থেকে যায়। ঘরের কেটলি বা পানির পাত্রে যে সাদা আস্তরণ জমে, তার পেছনেও এই খনিজগুলোর ভূমিকা রয়েছে।
এই খনিজের প্রভাব চুলেও পড়তে পারে। শক্ত পানিতে বারবার চুল ধুলে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম চুলের গায়ে জমে একটি আস্তরণ তৈরি করতে পারে। এর ফলে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে তা রুক্ষ, শুষ্ক বা খসখসে অনুভূত হতে পারে। গবেষণায় শক্ত পানিতে ধোয়া চুলে খনিজ জমার প্রমাণ পাওয়া গেলেও, এই জমাট আস্তরণ সরাসরি চুলের গঠনগত ক্ষতি করে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তবে সমস্যা তৈরি হতে পারে চুল পরিষ্কার করার সময়ও। জমে থাকা খনিজ দূর করতে অনেকেই বেশি ফেনা তৈরি করে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। এসব শ্যাম্পুতে সালফেটের মতো পরিষ্কারকারী উপাদান থাকতে পারে, যা চুল ও মাথার ত্বক থেকে তেল দূর করতে কার্যকর হলেও শুষ্ক বা ভঙ্গুর চুলে অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক টবিনের মতে, এখানে মূল বিষয় হলো ভারসাম্য রাখা। চুলে জমে থাকা খনিজ পরিষ্কার করতে হবে, আবার চুলের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেলও পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা যাবে না। অতিরিক্ত পরিষ্কার করার ফলে চুল আরও রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
শক্ত পানির এলাকায় বসবাস করলে চুলের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চুল ধোয়ার পর যদি আগের তুলনায় চুল বেশি শুষ্ক, রুক্ষ বা প্রাণহীন মনে হয়, তাহলে পানির মানও এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে পানি নরম করার ব্যবস্থা বা ওয়াটার সফটেনার ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে শুধু শক্ত পানি ব্যবহার করছেন বলেই চুলের ক্ষতি হবেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। চুলের ধরন, ব্যবহৃত শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, চুলের পরিচর্যার অভ্যাস এবং পানিতে থাকা খনিজের পরিমাণ সবকিছুর ওপরই চুলের অবস্থার পরিবর্তন নির্ভর করতে পারে। তাই চুলের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে কারণটি নির্ণয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান