ঢাকাWednesday , 16 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শুধু চুলের কাট নয়, আত্মবিশ্বাসও গড়েন যারা, তাদের নিয়েই বিশেষ এই দিন


September 16, 2026 1:10 pm
Link Copied!


চুলের কাট বদলানোর সঙ্গে বদলে যেতে পারে একজন মানুষের চেহারা, এমনকি আত্মবিশ্বাসও। সেই পরিবর্তনের নেপথ্যে থাকা নাপিতদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমকে সম্মান জানাতেই পালিত হয় বিশ্ব নাপিত দিবস। তবে আজকের এই দিনটি শুধুই চুল কাটার পেশাকে ঘিরে নয়। নাপিতের দোকান যে মানুষের যোগাযোগ, গল্প, বন্ধুত্ব ও সামাজিকতারও একটি জায়গা হয়ে উঠতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে আসে এই দিনে।

একটি বারবার শপে কাঁচি, ট্রিমার ও আয়নার পাশাপাশি থাকে নানা মানুষের নানা গল্প। কেউ চুল কাটাতে কাটাতে কাজের কথা বলেন, কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, আবার কারও সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতে হতে তৈরি হয়ে যায় পরিচয়। শহরের ব্যস্ত এলাকা থেকে ছোট শহর বা মফস্বল অনেক জায়গাতেই নাপিতের দোকান স্থানীয় জীবনের পরিচিত অংশ।

একজন দক্ষ নাপিতের কাজ শুধু চুল ছোট করে দেওয়া নয়। মুখের গড়ন, ব্যক্তিত্ব, পছন্দ এবং সময়ের ফ্যাশন বুঝে উপযুক্ত স্টাইল বেছে দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ। ফলে চুল কাটার পর আয়নায় নিজের নতুন চেহারা দেখে অনেকের মধ্যেই তৈরি হয় নতুন আত্মবিশ্বাস। এই কারণেই নাপিতের পেশার সঙ্গে সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি মানুষের মানসিক ভালো লাগার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।

মানবিক উদ্যোগ থেকেই শুরু

বিশ্ব নাপিত দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি মানবিক উদ্দেশ্য। ২০১৫ সালে আয়ারল্যান্ডের একদল নাপিত এই উদ্যোগ শুরু করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও বিভিন্ন সংকটে থাকা শিশুদের জন্য নিজেদের পেশাকে কাজে লাগিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

এই ভাবনা থেকেই ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতায় ‘দ্য বারবারশপ প্রজেক্ট’ শুরু হয়। বিশ্বের নাপিতদের কাছে আবেদন জানানো হয়, তারা যেন নিজেদের এক দিনের উপার্জন শিশুদের কল্যাণে দান করেন। একটি সাধারণ পেশাগত কাজকে সামাজিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার এই ভাবনা দ্রুতই বিভিন্ন দেশের নাপিতদের আকৃষ্ট করে।

এরপর বিভিন্ন দেশের বারবার শপ এই উদ্যোগে অংশ নিতে শুরু করে। নিজেদের দোকান ও কাজের মাধ্যমেই তারা তহবিল সংগ্রহের কাজে যুক্ত হন। ফলে চুল কাটার চেয়ার হয়ে ওঠে মানবিক সহায়তার একটি প্রতীক।

এই উদ্যোগের সুফল পৌঁছেছে শরণার্থী শিবির, যুদ্ধপ্রবণ এলাকা এবং উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিশুদের কাছেও। এই কর্মসূচির সঙ্গে নিজের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাটিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

বর্তমানে ৪০টিরও বেশি দেশে বিশ্ব নাপিত দিবসের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়েছে। আয়ারল্যান্ডের একটি ছোট দলের চিন্তা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি এখন বিভিন্ন দেশের নাপিতদের একত্রিত করে মানবিকতার একটি বৃহত্তর বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্ব নাপিত দিবস কীভাবে পালন করা যায়

এই দিনটিকে নিজের পরিচিত নাপিতকে ধন্যবাদ জানানোর উপলক্ষ হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে। ছোট কোনও উপহার, একটি আন্তরিক বার্তা কিংবা তার কাজের প্রশংসা যে কোনও কিছু দিয়েই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব। পরিষেবা ভালো লাগলে অনলাইনে ইতিবাচক রিভিউ লিখে অন্যদের তাঁর কাজ সম্পর্কে জানানোও হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ।

কাছের কোনও বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নতুন কোনও স্থানীয় নাপিতের দোকানে যাওয়া যেতে পারে। এতে নতুন ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পেশাজীবীদেরও সমর্থন করা হবে। নিয়মিত যার কাছে চুল কাটান, তার পরবর্তী সময়টিও আগে থেকে বুক করে রাখতে পারেন।

নতুন প্রজন্মের নাপিতদের উৎসাহ দেওয়াও হতে পারে দিনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় প্রশিক্ষণকেন্দ্র বা বারবার স্কুলে গিয়ে শিক্ষানবিশদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করা কিংবা তাদের কাজের প্রশংসা করা যেতে পারে।

সমাজের মানুষের জন্য কিছু করতে চাইলে বিনামূল্যে চুল কাটার কর্মসূচির আয়োজন করা যায়। স্থানীয় নাপিতদের সঙ্গে নিয়ে এমন একটি ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র বা প্রয়োজন থাকা মানুষদের পরিষেবা দেওয়া সম্ভব। চুল কাটার পাশাপাশি সেখানে সামান্য খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থা করলে সেটি স্থানীয় মানুষের মিলনমেলার রূপও নিতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্ব নাপিত দিবস উদ্‌যাপন করা যায়। নিজের নতুন হেয়ারস্টাইলের ছবি প্রকাশ করে সেই লুক তৈরির কারিগর নাপিতকে কৃতিত্ব দেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ছাঁট ও স্টাইলের ছবি তুলে ধরে অন্যদেরও নিজের পছন্দের লুক নিয়ে পরীক্ষা করতে উৎসাহ দেওয়া সম্ভব।

বিশ্ব নাপিত দিবস তাই মনে করিয়ে দেয়, মানুষের চেহারায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি একজন নাপিত চাইলে সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশ হতে পারেন। ছোট একটি উদ্যোগ, এক দিনের উপার্জন কিংবা সামান্য সময় এসবই কারও জীবনে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html