ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানি ক্যাফেগুলো যেভাবে হলো মুম্বাইয়ের প্রাণ

UttorbongoBD
June 14, 2026 11:55 am
Link Copied!


মুম্বাইয়ের পুরনো ধাঁচের বেশিরভাগ ইরানি ক্যাফেগুলোর অবস্থান রাস্তার ঠিক মোড়ে বা কোণায়। যেন তারা চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শহরটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং একটি চমৎকার রূপকও বটে। কারণ যে মানুষগুলো এই ক্যাফেগুলো তৈরি করেছিলেন, তারা একদিন নিজেদের মাতৃভূমি ইরানেও এভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। আজ ভারতই তাদের ঘর, আর মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটি তাদের চেনা আঙিনা।

অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে পারস্যের কাজার রাজবংশের (১৭৮৯-১৯২৫) শাসনামলে তীব্র দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে জরাথ্রুস্টবাদী ইরানিদের একটি দল মুম্বাইতে পাড়ি জমায়। অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে ভারতে আসা পার্সিদের সাথে তাদের পারস্যের মূল ও ধর্মীয় মিল থাকলেও, এই ইরানিরা ছিল মুম্বাইয়ের একেবারেই ভিন্ন এবং সাম্প্রতিক এক অভিবাসী জনগোষ্ঠী।

আজ মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটির মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের এই আইকনিক ক্যাফেগুলোর পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

বাস্তুশাস্ত্র ও সস্তা জমির সমীকরণ

মুম্বাইয়ের আকাশচুম্বী আবাসন ব্যবসার রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ইরানি ক্যাফেগুলো ত্রিকোণাকার প্লট বা রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে। মুম্বাইয়ের রন্ধনশিল্প নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক কুরুশ দালালের মতে, ঐতিহ্যবাহী বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এই ধরণের জমির পার্সেল বা কোণাগুলোকে একসময় অপয়া বা অশুভ মনে করা হতো। ফলে প্রচলিত প্লটের চেয়ে এগুলোর দাম ছিল অনেক কম।

কুরুশ দালাল বলেন, খারাপ বাস্তুর কারণে হিন্দুরা ওই প্লটগুলো নিতে চাইতো না। ফলে যুক্তি অনুযায়ী যে জায়গাগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই ইরানিরা নামমাত্র মূল্যে কিনে নেয়। মূলত বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও বিশ্বাসই অবলীলায় জন্ম দিয়েছিল মুম্বাইয়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য সংস্কৃতির।

সীমিত পুঁজি নিয়ে আসা নতুন ইরানি অভিবাসীদের জন্য পানির দরে পাওয়া এই কোণাগুলোই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই মোড়ের দোকানগুলোই একেকটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়।

মুম্বাইয়ের ব্যালার্ড এস্টেটে অবস্থিত শহরের অন্যতম আইকনিক ইরানি ক্যাফে ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

সংস্কৃতি ও চেনা স্বাদের মেলবন্ধন

রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হলেও দুটি ইরানি ক্যাফে দেখতে কখনোই একরকম নয়, তবে কিছু চিরচেনা সাদৃশ্য এদের এক সুতোয় বেঁধেছে। লাল-সাদা চারকোনা চেকের টেবিলক্লথ, সাদা-কালো লবণ ও গোলমরিচের দানি, দেওয়ালে টাঙানো জরাথ্রুস্টবাদের প্রতীক ফারভাহার এবং পুরনো বাসনকোসন। এছাড়া ক্যাফেগুলোতে রয়েছে ফেলে আসা স্বদেশের স্মৃতি, যেমন ইয়াজদ অগ্নি মন্দিরের ছবি কিংবা ২৬০ খ্রিস্টাব্দের এডেসার যুদ্ধের পর রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে বন্দী করার ঐতিহাসিক দৃশ্য সংবলিত নকশ-ই রোস্তমের ফ্রেম। মুম্বাইয়ের আর কোনও রেস্তোরাঁয় এত সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় না।

এখানকার খাবারও অনন্য; যা পুরোপুরি পার্সিয়ান নয়, আবার পুরোপুরি মুম্বাইয়ের চেনা স্বাদও নয়, বরং দুইয়ের মাঝামাঝি। ব্রুন-মাস্কা, আকুরি, মিষ্টি ও দুধেল ইরানি চা, খীমা পাও, মাওয়া কেক, ক্যারামেল কাস্টার্ড এবং বেরি পোলাওয়ের মতো খাবারগুলো পারস্যের প্রভাবে তৈরি হলেও, স্থানীয় উপাদান এবং মুম্বাইয়ের কর্মজীবী মানুষের রুচির সাথে মিলিয়ে এর স্বাদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মারাঠি কবি দিলীপ চিত্রে এই ক্যাফেগুলোর একাকীত্ব ও শান্ত মানবিক আবহ নিয়ে ‘অ্যাট মিডনাইট ইন দ্য বেকারি অ্যাট দ্য কর্নার’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতাও লিখেছেন।

হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ঐতিহ্য

১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে কেবল মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটিতেই ৩৫০টিরও বেশি ইরানি ক্যাফে ছিল। কিন্তু আজ পুরো মুম্বাই ও তার শহরতলি মিলিয়ে মাত্র ৩৫টির মতো ক্যাফে টিকে আছে। এই বিলুপ্তি অবশ্য অনেক আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক জের মহল ভবনে অবস্থিত ক্যায়ানি অ্যান্ড কোং-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের মালিক আফলাতুন শোকরিয়ে বলেছিলেন, আমাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা এই ব্যবসা চালিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর আজ সেই কথাটিই নির্মম সত্যে পরিণত হয়েছে।

আজকের আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং কৃত্রিম আতিথেয়তার যুগেও স্যাসানিয়ান বোলাঞ্জেরি, ক্যাফে মিলিটারি, ক্যাফে এক্সেলসিয়র কিংবা ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং-এর মতো টিকে থাকা ক্যাফেগুলো মানুষকে এক টুকরো চেনা অতীত ও মানবিকতার ছোঁয়া দেয়। কাঠের চেয়ার, মার্বেল টপ টেবিল আর দেয়ালের চটা ওঠা রঙের মাঝে ক্যাফেগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা থাকে স্পষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা, যেমন কেবল নগদ টাকা নেওয়া হয়, বেশি সময় বসা নিষেধ, উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ। প্রখ্যাত কবি নিসিম এজেকিয়েল এই বোর্ডগুলো দেখেই লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘ইরানি রেস্টুরেন্ট ইনস্ট্রাকশনস’।

দক্ষিণ মুম্বাইয়ে ধোবি তালাওতে অবস্থিত আইকনিক ইরানি ক্যাফে স্যাসানিয়ান বোলাঞ্জেরি। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

তবে সব ক্যাফে অপরিবর্তিত থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে ক্যাফে লিওপোল্ড এবং ক্যাফে মোনদেগার-এর মতো জায়গাগুলো বার-ক্যাফেতে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার ভারত ও যুক্তরাজ্যে সোডাবোটলওপেনারওয়ালা বা ডিশুমের মতো চেইন রেস্টুরেন্টগুলো ১৯৬০-এর দশকের ইরানি ক্যাফের আবহ আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ে ফিরিয়ে এনেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যখন মুম্বাইয়ের কিংবদন্তি বি মারওয়ান অ্যান্ড কোং চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রবেশদ্বারে কেবল একটি হাতে লেখা নোট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল- আমরা বন্ধ। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। গত বছর বন্ধ হয়ে গেছে জিমি বয়। কোনও ঢাকঢোল না পিটিয়ে নিরবেই বিদায় নিচ্ছে পুরনো মুম্বাইয়ের এই স্মৃতিগুলো। কবি ইমতিয়াজ ধারকার তার কবিতায় হারিয়ে যাওয়া নাজ ক্যাফের স্মৃতিচারণ করে যে হাহাকার প্রকাশ করেছিলেন, তা যেন আজ প্রতিটি ইরানি ক্যাফের ভাগ্যলিপি। তবে শেষ ট্র্যাজেডি এটাই যে, বাস্তুশাস্ত্রে একদা যে কোণগুলোকে অপয়া বলে অবহেলা করা হয়েছিল, আজ তাই মুম্বাইয়ের নস্টালজিয়া ও সবচেয়ে ভালোবাসার সাংস্কৃতিক স্থান হয়ে টিকে আছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html