রাজধানীর মেরাদিয়া মাছ বাজারে দেশি চিংড়ি কিনতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আতাউর রহমান। লাউ দিয়ে দেশি ছোট চিংড়ি খেতে চায় ছেলে মেয়েরা। এ কারণে সকাল সকাল চিংড়ি কেনার জন্য বাজারে আসেন তিনি। কিন্তু চিংড়ি কিনতে এসে মাথায় হাত পড়েছে। দেশি চিংড়ি একটু কালোটা ১ হাজার টাকা কেজি। আর সাগরের চিংড়ি ৮০০ টাকা।
আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশি এই ছোট চিংড়ি কয়েকদিন আগে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ছিল। এখন ১ হাজার টাকা কেজি। এটা কী করে সম্ভব? মানুষ মাছ খাবে কী করে? তেলাপিয়া আর পাঙাস সেটাতো ৩৫০ টাকার ওপরে কেজি। আর রুই তো এক কেজির ওপরেরগুলো ৩৮০ টাকা থেকে শুরু।

তিনি বলেন, সবজি, মাছ, মাংসের দাম এত যদি বেড়ে যায়, আমরা যারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত তাদের কী হবে?
আতাউর রহমানের কথায় বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাদা ছোট চিংড়ি ৮০০ টাকা কেজি, কালোটা ১ হাজার। ট্যাংরা ৮০০ টাকা, অন্যান্য ছোট মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ তাজা কেজির ওপরে ৩৮০ টাকা ৪৮০ টাকা। এছাড়া বোয়াল, শোল, মৃগেল মাছগুলোর দামও আকাশ ছোঁয়া। কেজি প্রায় ৫০০-এর কাছাকাছি। অর্থাৎ পুরো মাছের বাজারের যে মাছ আপনি কিনতে চান, সেগুলোর দাম কোনোটাই নাগালের মধ্যে নেই।
এছাড়াও ইলিশ, যেগুলো জাটকার চেয়ে একটু বড়, সেগুলোও ১০০০ হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি।
কথা হয় আব্দুস সালাম নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, রুই মাছ কিনলাম ৩৮০ টাকা কেজি। আগে ২-৩টা কিনতাম। এখন একটাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
আব্দুস সালাম বলেন, কোন পণ্যের দাম একটু নাগালের মধ্যে বলেন? পেপেও ৩০ টাকা কেজি। আর আলু আগে তো ২০-২৫ টাকা ছিল, সেটিও ৩৫ টাকা কেজি। এছাড়া অন্যান্য সব সবজি ৬০-এর ওপরে। যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি, আর উপার্জন একজনের ওপর, তাদের যে চাপা কান্না চলছে সেটি দেখার মতো আসলে কেউ নেই।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বাজারের পণ্যের দামে কোনও পরিবর্তন নেই। যথারীতি মুরগির ডিম ১৪৫-১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা যায়। আর মুরগির মাংসের মধ্যে দেশিটা ৬৫০-৬৬০ টাকা, ব্রয়লার ১৯০ টাকা আর কক ৩৩০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮২০, আর খাসির ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবিজর বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ৩০, পটল ৬০, সিম ৮০, করলা ৮০, ঝিঙা ৬০, চিচিঙ্গা ৬০, ভেন্ডি ৫০, পেঁপে ৩০, বেগুন প্রকার ভেদে ৮০- ১২০, কাকরোল ৭০, টমেটো ১২০, রসুন ১২০- ২০০ প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৮০, বাঁধাকপি ৮০, লাউ ৫০- ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা গৃহিনী শারমিন বেগম বলেন, আমাদের মতো পরিবারের লোকজন এখন আর পূর্ণভাবে বা মনের মতো বাজার করতে পারে না। অল্প অল্প করে কিনতে হয়। নতুবা সন্ধ্যার দিকে আসতে হয়। এ সময় সবজি কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা কমে পাওয়া যায়। সকালে টাটকা সবজির দাম তারা বেশি রাখে।
তিনি বলেন, পণ্যের মূল্যে আমরা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছি। সংসার চালানই আমাদের কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজারের মাছ বিক্রেতা ইউনুস বলেন, আমাদের কী করার আছে। যদি বেশি দামে কিনতে হয়, আমরা তো আর লসে বিক্রি করতে পারি না। দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও ব্যবসা কমে গেছে। যারা একসঙ্গে ৩-৪টা রুই মাছ কিনতো, তারা তো দুইটাও নিতে চায় না। সবারই একই অবস্থা।
সবজি বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, বাজারের পরিস্থিতি ভালো না। আমি আগে ২৫-৩০ হাজার টাকার সবজি আনতাম। বিক্রি কমে যাওয়াতে ১০-১২ হাজার টাকার আনতে হয়। একদিকে ক্রেতাদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, আমাদেরও বেচা কমে গেছে।