বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুতে পরিণত হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ বর্তমানে ভারতের দিকে। এটি আগামী ২ নভেম্বর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
রবিবার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা থেকে ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২ নভেম্বর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দেশটির দুই রাজ্যের কয়েকটি জেলায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরের নতুন নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটি অন্ধ্রপ্রদেশের মাছলিপত্তনামের কাছে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলের কাছে পৌঁছাতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় মুরাসু নামটি দিয়েছে ভারত। এর অর্থ ঢাক বা ডঙ্কা, যা এক ধরনের বাদ্যযন্ত্র।