মুম্বাইয়ের জুহু সৈকতের কাছে অবস্থিত অমিতাভ বচ্চনের বাংলো ‘জলসা’ বলিউডের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা। প্রতি রবিবার বিকাল ৫টা নাগাদ এই বাড়ির বাইরে ভিড় জমান অনুরাগীরা। প্রিয় অভিনেতার এক ঝলক দেখার আশায় অপেক্ষা করেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তবে এই বাড়ির নাম বরাবর ‘জলসা’ ছিল না। একসময় বাংলোটির নাম ছিল ‘মনসা’। সেই নামেই বাড়িটি প্রথম পেয়েছিলেন অমিতাভ।
এই বাংলোর গল্প জানতে ফিরে যেতে হবে ১৯৮২ সালে। তত দিনে অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ির সঙ্গে বিয়ে হয়েছে অমিতাভের। তাঁদের দুই সন্তান শ্বেতা ও অভিষেকও তখন ছোট। ওই বছর রাজ সিপ্পির পরিচালনায় ‘সত্তে পে সত্তা’ ছবিতে অভিনয় করেন অমিতাভ। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়। ছবিতে অভিনয়ের পারিশ্রমিক হিসাবেই অমিতাভকে জুহুর প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের বাংলোটি উপহার দিয়েছিলেন ছবির প্রযোজক ও পরিচালক রাজ সিপ্পির বাবা এনসি সিপ্পি। তখন বাড়িটির নাম ছিল ‘মনসা’। তবে প্রথম দিকে সেখানে থাকতে শুরু করেননি অভিনেতা।
এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া বাংলোটি পরে তিনি বিক্রি করে দেন। কিন্তু কয়েক বছর পর স্ত্রী জয়ার পরামর্শে বাড়িটি আবার কেনার সিদ্ধান্ত নেন। আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিয়ে বাংলোটি ফের কিনতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর নিজেদের পছন্দমতো বাড়িটি সাজিয়ে তার নাম রাখেন ‘জলসা’।
তবে ‘মনসা’ নামটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। জুহুতে বচ্চন পরিবারের একাধিক বাংলো রয়েছে। ‘জলসা’র কাছেই রয়েছে ‘জনক’ এবং ‘আম্মু’ নামে আরও দুটি বাড়ি। এ ছাড়া ২০০০ সালে ‘জলসা’র পেছনে আরও একটি বাংলো কেনেন বচ্চন পরিবার। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় সেই বাড়িটি। সেখানে মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজনও হয়। বাড়িটি কেনার আগে তার অন্য নাম থাকলেও পরে সেটির নাম রাখা হয় ‘মনসা’।
অর্থাৎ, যে বাংলোর নাম একসময় বদলে হয়েছিল ‘জলসা’, সেই নামেই পরে বচ্চন পরিবারের অন্য একটি বাড়ি পরিচিতি পায়।