মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকার এবং প্রকাশ্য আসতে যাওয়া একটি বইয়ে নিজেকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের লেখক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নামক বইটিতে দেখা যায়, ট্রাম্প এমন একটি নথি দেখিয়েছেন যেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে তিনি আতিলা দ্য হুন, চেঙ্গিস খান, নেপোলিয়ন, স্টালিন, মাও সেতুং এবং হিটলারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিচিত একনায়কদের চেয়েও তার ক্ষমতা বেশি।
৮০ বছর বয়সী এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে এই একনায়কদের পাশাপাশি স্থান দিতে দ্বিধা করেননি, যা ক্ষমতা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলে। লেখকরা লিখেছেন, তিনি সেটি থেকে পড়া শুরু করেন এবং ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী কিছু ব্যক্তিত্বের নাম আবৃত্তি করেন। এরপর ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেন যে কীভাবে এদের প্রত্যেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নিজের ক্ষমতার চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন।
বইটিতে ট্রাম্প বলেন, তাদের তো বিমান ছিল না, তাই না? তারা এভাবে ভ্রমণ করতে পারতো না। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, রোমান সম্রাটরা, উইলিয়াম দ্য কনকারার ও নেপোলিয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হ্যাবারম্যান ও সোয়ান লিখেছেন, মাও, হিটলার ও স্ট্যালিনের মতো নেতাদের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করতে ট্রাম্পের কোনও অস্বস্তি ছিল না। তাদের মতে, বিশ্বকে বিজয় ও ভয়ের মাধ্যমে পুনর্গঠনকারী এসব নেতার সঙ্গেও তিনি নিজেকে স্বাভাবিকভাবেই একই আলোচনায় স্থান দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একই নথি প্রকাশ করেন। এর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্সিয়াল ইতিহাসবিদ ডেভ কিং; শুনতে তো ভালোই লাগছে! নথিটি শুরু হয়েছে এই কথা দিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন, কোনও প্রশ্ন ছাড়াই, এই গ্রহের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ। এতে আরও বলা হয় যে, ঐতিহাসিকভাবে, শক্তিশালী পুরুষদের বৈশিষ্ট্য ছিল নৃশংস বিজয় এবং জনগণের মনে ভয় তৈরি করা।
এদিকে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে তার ক্ষমতার ‘কোনও সীমা নেই’। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রবেশের সময় নিজেকে ‘দ্য বস’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ