দেশে মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনীতি বন্ধ করতে হবে বলে জাতীয় সংসদে দাবি তুলেছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি-দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ। তিনি বলেন, “মসজিদ আল্লাহর ঘর, মসজিদে মানুষ নামাজ পড়বে, মসজিদে কোরআন শরীফ পড়বে, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে রাজনীতি করে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিন সোমবার (২২ জুন) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনের এই পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি-দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান আইন পাস করার জন্য, যাতে কোনও মসজিদ মাদ্রাসায় রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়। তিনি বলেন, “আমরা যেমন প্রকাশ্যে ফুটবল মাঠে বা হাই স্কুলে বা কোনও হলরুমে বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলরা কর্মীসভা করি, জনসভা করে মিটিং করি, তাদেরকেও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তারা মসজিদে মিটিং করতে পারবে না। আমার সঙ্গে সবাই একমত কি-না জানি না।”
‘মানুষ বলছে বিএনপি এসে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে’
এদিন বাজেট আলোচনায় রেজা আহাম্মেদ আরও বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, নাটোরের লালপুর এবং রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট এলাকা বিস্তৃত চরাঞ্চল, যেখানে দুইটি বাহিনী গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় খাস জমি, খড় ও বালুমহালকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের সময় এই সন্ত্রাসটা ছিল না। এখন মানুষ বলছে যে বিএনপি এসে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তার নির্বাচনি এলাকায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুলিশের যানবাহনের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গাড়ি ও জনবল বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং অনেক শিক্ষক সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাই চরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সময় শেষ হয়ে গেলে স্পিকার তার মাইক বন্ধ করে দেন।