এতদিন জুতো কোম্পানিগুলো দ্রুত দৌড়ানো, উঁচুতে লাফানো কিংবা শুধু ফ্যাশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জুতো বিক্রি করত। তবে এবার ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান নাইকি মানুষের ‘মন ভালো করা’ এবং ‘মনোযোগ বাড়ানো’র এক অভিনব জুতো বাজারে এনেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর থেকেই নাইকির ‘মাইন্ড’ সিরিজের এই জুতো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্নায়ুবিজ্ঞান-নির্ভর এই জুতো কেনার জন্য ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে।
নাইকি জানিয়েছে, জুতোর মজুত শেষ হওয়ার পর তা পুনরায় পেতে তাদের অনলাইন শপে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেছেন। এমনকি স্টকএক্স-এর মতো রিসেল সাইটগুলোতেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে এই জুতো।
স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ভিড়ে এটি ‘পরিধানযোগ্য সুস্থতা’-র এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। ইলেকট্রনিক যন্ত্র ছাড়াই কেবল বিশেষ ধরনের টেক্সটাইল বা জুতোর বুননে পরিবর্তন এনে শরীর ও মন সুস্থ রাখার এই দৌড়ে নাবোসো, সিয়ান কিংবা ফরাসি ব্র্যান্ড কোপার্নির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও কাপড় ও মোজা তৈরি করছে। তবে নাইকির এই জুতো মূলত খেলাধুলার আগে ও পরে মানুষের মানসিক বিভ্রান্তি দূর করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
এই জুতোর তলায় ২২টি ফোমের বোতামের মতো অংশ রয়েছে, যা হাঁটার সময় পিস্টনের মতো স্বাধীনভাবে ওঠানামা করে পায়ের স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। নাইকির স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাবের প্রধান গবেষক গ্রায়েম মফাট জানান, ১০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে এই জুতো পরলে মস্তিষ্কের সেন্সরিমোটর নেটওয়ার্ক সচল হয় এবং নেতিবাচক চিন্তা সৃষ্টিকারী অংশটি শান্ত হয়ে আসে। এর ফলে ব্যবহারকারী এক ধরনের ‘স্বস্তিদায়ক সতর্কতা’ লাভ করেন।
মফাট বলেন, আমরা ব্যবহারকারীদের নতুন অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হতে, নিজের লক্ষ্যের ওপর মনোযোগ দিতে এবং মাথা থেকে আজেবাজে চিন্তা দূর করতে সাহায্য করছি।
যুক্তরাজ্যের লাফবরো ইউনিভার্সিটির পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বিষয়ের অধ্যাপক ড. ইশারা ধর্মসেনা মনে করেন, এই বৈজ্ঞানিক ধারণার সঙ্গে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাপদ্ধতির মিল রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহারের ফলে আমাদের মস্তিষ্ক এই অনুভূতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, ফলে এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি এই জুতোকে প্যাসিভ নিউরো-উইয়ারেবল বা নিষ্ক্রিয় প্রযুক্তির এক অনন্য ‘অ্যান্টি-ট্রেন্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ বিশ্ব যেখানে ইলেকট্রনিক্সের দিকে ঝুঁকছে, নাইকি সেখানে কোনও ইলেকট্রনিক মেকানিজম বা ব্যাটারি ছাড়াই অ্যাথলেটদের মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার এক কৌশলী পদ্ধতি তৈরি করেছে।
সূত্র: সিএনএন