ঢাকাWednesday , 1 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেসরকারি খাতে সহজ হচ্ছে বৈদেশিক ঋণ, অর্থনীতির জন্য সুযোগ নাকি নতুন ঝুঁকি?


July 1, 2026 12:40 am
Link Copied!


বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ সুদের স্থানীয় ঋণের বিকল্প হিসেবে বেসরকারি খাতকে কম সুদের বিদেশি ঋণ নিতে উৎসাহিত করছে। অপরদিকে সরকারের সামষ্টিক বৈদেশিক ঋণের চিত্র বলছে, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে নতুন অর্থ আসছে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে অতীতে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে।

অর্থাৎ একই সময়ে দুটি বিপরীতমুখী চিত্র সামনে এসেছে। একটি হলো—বিদেশি ঋণ গ্রহণের নীতি শিথিল করার উদ্যোগ; অন্যটি—বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ। ফলে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন শুধু কত ঋণ নেওয়া হচ্ছে সেটি নয়, বরং সেই ঋণ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে আরও সহজ

মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, বেসরকারি খাতের জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের নীতিমালা আরও সহজ করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এখনকার নীতি হচ্ছে বিদেশি ঋণকে উৎসাহিত করা। খুব শিগগিরই একটি নতুন সার্কুলার দেওয়া হবে, যাতে বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা যায়।”

গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। অথচ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশি ব্যাংক থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া সম্ভব। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমাতে এবং শিল্প বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশি ঋণকে ইতিবাচকভাবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি আরও জানান, বিদেশি মূল কোম্পানি থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিষয়টি জানাতে হবে, যাতে ঋণ পরিশোধের সময় কোনও জটিলতা তৈরি না হয়।

মেঘনা গ্রুপের ঋণ অনুমোদনের পর বদলালো অবস্থান

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হচ্ছে মেঘনা গ্রুপের ৮০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন।

গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) থেকে চারটি জাহাজ কেনার জন্য নেওয়া প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯৮৪ কোটি টাকা। ঋণটির সুদের হার ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গ্রেস পিরিয়ড দুই বছর।

তবে বিষয়টি শুরু থেকেই সহজ ছিল না।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে আবেদনটি নাকচ করেছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, আমদানিনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ ভবিষ্যতে বিনিময় হার অস্থিতিশীল হলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবস্থান পরিবর্তন করে ঋণটি অনুমোদন দেয়। একই সঙ্গে পুরো বিদেশি ঋণ অনুমোদন নীতিমালা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কেন বদলালো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান?

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ২০২২ সালে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি ঋণের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমছিল এবং বিনিময় হার অস্থিতিশীল ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন।

তার ভাষায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং বিনিময় হারও তুলনামূলক স্থিতিশীল। ফলে এখন নিয়ন্ত্রিতভাবে বিদেশি ঋণ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, বৈদেশিক ঋণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে বিনিময় হার। ভবিষ্যতে আবার টাকার অবমূল্যায়ন হলে ঋণ পরিশোধের ব্যয় অনেক বেড়ে যেতে পারে।

সরকারের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে

যেখানে বেসরকারি খাতকে বিদেশি ঋণে উৎসাহিত করা হচ্ছে, সেখানে সরকারের বৈদেশিক ঋণের হিসাব ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে—এই ১১ মাসে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবে পেয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিদেশ থেকে যে অর্থ এসেছে, তার প্রায় ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশই চলে গেছে পুরোনো ঋণ শোধে। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য প্রকৃত নতুন বৈদেশিক অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। কারণ নতুন বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে যে অতিরিক্ত সম্পদ যুক্ত হওয়ার কথা, সেটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ প্রায় ৪১৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরের ১১ মাসে এটিই সর্বোচ্চ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ।

এর মধ্যে সুদ বাবদ গেছে প্রায় ১৪৫ কোটি ডলার এবং আসল ঋণ পরিশোধ হয়েছে প্রায় ২৬৮ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে শুধু সুদ নয়, আসল ঋণ পরিশোধও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

কেন এত বাড়ছে ঋণ পরিশোধ?

অর্থনীতিবিদদের মতে, এর প্রধান কারণ গত এক দশকে বাস্তবায়িত বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প।

পদ্মা রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়েছে। ফলে এখন নিয়মিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে একই পরিমাণ ডলার শোধ করতে সরকারের অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

নতুন ঋণ ও অনুদানও কমছে

ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও নতুন বৈদেশিক সহায়তা কমে যাচ্ছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার।

এক বছর আগে একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ১২৬ কোটি ডলার। বিশেষ করে অনুদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আগের মতো অনুদান পাবে না। ফলে বাজারভিত্তিক এবং তুলনামূলক বেশি সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

অর্থছাড়েও বড় ধাক্কা

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে অর্থছাড়ও কমেছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে অর্থছাড় হয়েছে প্রায় ৪৫৮ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে ছিল প্রায় ৫৬১ কোটি ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ১০৩ কোটি ডলারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা, ক্রয় প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ঘাটতির কারণে প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় হচ্ছে না।

সংসদে স্বচ্ছতার দাবি

বিদেশি ঋণ নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিদেশি ঋণ গ্রহণে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রকল্পভিত্তিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিদেশি ঋণের শর্ত, পরিমাণ, কোন দেশ থেকে নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংসদে তুলে ধরা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক প্রকল্পে বিদেশি ঋণের অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে বলেছেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া অপরিকল্পিত ও লোকদেখানো প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ এখন জাতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এমন অনেক প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যেগুলো থেকে কোনও রাজস্ব আসে না। ফলে এখন বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর চাপ বহন করতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা কী বলছেন

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। বড় প্রকল্পগুলোর কিস্তি পরিশোধ এখন মূল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বছরে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হতে পারে।

অপরদিকে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, এখন ঋণ নেওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে প্রকল্পের অর্থনৈতিক ফলনকে। এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে, যেখান থেকে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে এবং ঋণ নিজেই নিজের পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি করবে।

সামনে সুযোগ, নাকি নতুন ঝুঁকি?

বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণ সংকটে পড়েনি। বৈদেশিক ঋণের অনুপাত এখনও সহনীয়। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতা স্পষ্টভাবে সতর্ক করছে।

একদিকে বেসরকারি খাতে কম সুদের বিদেশি ঋণ বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে সরকারের ক্ষেত্রে নতুন বৈদেশিক অর্থের বড় অংশই পুরোনো ঋণ পরিশোধে চলে যাওয়ায় উন্নয়ন অর্থায়নের সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এখন আর শুধু কত ঋণ নেওয়া হচ্ছে, সেটিই মূল প্রশ্ন নয়। বরং ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সেই বিনিয়োগ থেকে কতটা অর্থনৈতিক ফলন আসছে এবং তা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও প্রবৃদ্ধিতে কতটা অবদান রাখছে—এসবই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—ঋণকে ব্যয় নয়, উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর করা। কারণ টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মূল শর্ত হলো, সেই ঋণই ভবিষ্যতে নিজের পরিশোধের সক্ষমতা সৃষ্টি করবে।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html