ঢাকাThursday , 2 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্যোটে, বালজাক ও গীতা : হেসের তিন মহাদেশের পাঠযাত্রা

UttorbongoBD
July 2, 2026 9:40 pm
Link Copied!


বইয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা, পড়ার প্রতি তীব্র টান খুব অল্প বয়সেই শুরু হয়েছিল। কৈশোরের প্রথম দিকে যে গ্রন্থাগারটির সঙ্গে আমার সবথেকে বেশি ঘনিষ্ঠতা ছিলো, যেখানে ইচ্ছেমতো আমার প্রবেশাধিকার ছিলো, সেটি ছিলো আমার পিতামহের গ্রন্থাগার। সেই বিশাল গ্রন্থাগারের বড়ো একটা অংশ আমাকে কখনো টানতে পারেনি। অনেক বইয়ের প্রতি কখনই আগ্রহ কাজ করেনি। এত বই মানুষ কীভাবে স্তূপ করতে পারে তা আজও আমার মাথায় ঢোকে না। সারি সারি তাকে থরে থরে সাজানো ইতিহাস ও ভূগোলের বর্ষ পুস্তক, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় ধর্মতত্ত্ব, সোনালি মলাটে ছাপা ইংরেজি কিশোর সাহিত্য ও শিক্ষামূলক বই, ছোটো ছোটো বান্ডিল করা—পরিপাটি করে কার্টনের ভেতর গুছিয়ে রাখা হাজারো বিষয়ের গুচ্ছ গুচ্ছ অ্যাকাডেমিক পত্রিকা প্রথম দিকে আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হতো। মনে হতো, ধুলোয় ভরা বইগুলো সংরক্ষণের অযোগ্য।

কিন্তু ধীরে ধীরে আমি গ্রন্থাগারটিকে আবিষ্কার করতে শুরু করি। শুরুটা হয়েছিল পৃথক পৃথক কিছু বইয়ের মাধ্যমে। ওই বইগুলোতে আকৃষ্ট হতে হতে পাঠাগারটির প্রতি একঘেয়েমি ক্রমশ দূর হয়ে যেতে থাকে। আমি নতুন নেশায় বুঁদ হয়ে যাই, যেন রত্ন খুঁজে পেয়েছি। এসব বইয়ের মধ্যে অন্যতম ছিলো গ্রঁভিলের (Grandville) আঁকা ছবিতে রবিনসন ক্রুসো ও ১৮৩০-শে প্রকাশিত ক্রাউন কোয়ার্টো সাইজের চিত্রসংবলিত দুই খণ্ডের সহস্র এক আরব্য রজনী-এর জার্মান সংস্করণ। ওই ধূসর কুয়াশাভরা সমুদ্রে সত্যিই কিছু মুক্তো যে লুকিয়ে ছিলো সেটা এই দুটো বইই আমাকে প্রথম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এরপর থেকে আমাকে দ্যাখে কে? কখনো উঁচু বইয়ের তাকগুলো ভালো করে দেখি, কখনো মেঝেতে পেটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে শুয়ে অগুনতি বইয়ের ভেতর পছন্দের বই খুঁজি। ধুলোয় ভরা রহস্যময় ওই বইয়ের ঘরে আমার প্রথম মূল্যবান আবিষ্কার ছিলো আঠারো শতকের জার্মান সাহিত্য। দেখা পাই বিরল কিছু রচনাসমগ্রের। ধুলোর ভেতর ভ্যার্থার বা ক্লপ্সটকের মহাকাব্য মেসিয়াজ কিংবা তামায় ষোডোভীকির (Daniel Chodowiecki) খোদায় করা পঞ্জিকা-ই শুধু ছিলো না, ছিলো নয় খণ্ডে হামানের (Johann Georg Hamann) সমগ্র রচনাবলি, সম্পূর্ণ য়ুং-স্টিলিং, গোটা লেসিং, ভাইসে (Christian Felix Weiße), রাবেন্যার (Rabener), রামল্যার (Ramler) ও গেল্যার্ট (Gellert)-এর কবিতা, ছয় খণ্ডে মেমেল থেকে সাক্সেন সোফির ভ্রমণবৃত্তান্ত (Sophiens Reise von Memel nach Sachsen), কিছু সাহিত্য-সাময়িকী ও জঁ পলের কয়েকটি গ্রন্থ। আমার এখনো মনে আছে—ওখানে আমি বালজাকের রচনার কয়েকখণ্ড জার্মান সংস্করণ খুঁজে পেয়েছিলাম। খণ্ডগুলো ছিলো নীল হার্ডকভারে মোড়ানো এবং বালজাকের জীবদ্দশায় প্রকাশিত। ওই প্রথম ‘বালজাক’ নামটির সঙ্গে আমার পরিচয়। এই মহান লেখকের বই প্রথম পড়ার ঘটনা কখনোই ভুলতে পারব না। একইসঙ্গে প্রথম পাঠে তাকে কত অল্পই ধরতে পেরেছিলাম সে কথাও ভোলার নয়। কারণ, অগোছালোভাবে তার একটি খণ্ড নিয়ে পড়া শুরু করতেই দেখি কোনো এক ব্যক্তির সম্পদ ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিশদ বর্ণনা। এস্টেট থেকে তার মাসিক আয়, উত্তরাধিকারসূত্রে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ, ভবিষ্যতে পাওয়ার সম্ভাবনা, ঋণ ইত্যাদির বর্ণনা। আমি চরম হতাশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আবেগ, বিষাদ, নিষিদ্ধ প্রেমকাহিনি কিংবা অজানা দেশের দুঃসাহসিক ভ্রমণ পাবো তার লেখায়। কিন্তু সেসবের পরিবর্তে পড়তে হলো অজ্ঞাত তরুণের মানিব্যাগের গল্প! বিরক্ত হয়ে নীল মলাটের সেই বইটি তার জায়গায় ফিরিয়ে রেখেছিলাম। এরপর বহু বছর আর বালজাক পড়িনি। কিন্তু অনেক পরে তাকে পড়তে গিয়ে অন্যরকম লাগে, তাকে আবিষ্কার করি নতুনভাবে, তিনি হয়ে ওঠেন আমার চিরদিনের সঙ্গী। তবে দাদার গ্রন্থাগার থেকে আঠারো শতকের জার্মান কবিতার সন্ধান পাওয়া ছিলো সবথেকে ভালো অনুভূতিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ওই সময়ে কবিতার সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত নতুন এক জগৎকেও চিনতে শুরু করলাম। সে জগতে পরিচয় ঘটলো নূহ নবীকে নিয়ে লেখা বডম্যারের নোয়াখিডে (Die Noachide in Zwölf Gesängen), সলোমন গেসনারের ইডিলেন (Idyllen), বিখ্যাত ভূগোলবিদ গেওর্গ ফর্স্ট্যারের (Georg Forster) ভ্রমণবৃত্তান্ত, মাথিয়াস ক্লাউডিয়ুসের রচনাসমগ্র, এখার্টহাউজেনের বাংলার বাঘ (Der Tiger von Bengalen : Karl von Eckartshausen), মিলারের জীগভার্ট (Siegwart), হিপেলের ক্রয়েস- উন্ড কুয়্যারস্যুগে (Kreuz- und Querzüge)-সহ অগণিত বইয়ের সঙ্গে। নিঃসন্দেহে এইসব বইয়ের মধ্যে অনেক বইই ছিলো অপ্রয়োজনীয়—সময়কে অতিক্রম করতে পারেনি। কিন্তু এসবের মধ্যেই তো খুঁজে পেয়েছি ক্লপস্টকের অসাধারণ ওড বা ত্রস্তকবিতা, গেসন্যার ও ভীলান্ডের কোমল-মসৃণ গদ্যের পৃষ্ঠা, হামানের হৃদয় কাঁপানো সৌদামিনীর ঝলক। পড়তে পড়তে এমনকি আঠারো শতকের বেশকিছু বাজারি বইও পড়ে ফেলেছিলাম। তবে তার জন্য অনুশোচনা হয়নি। কারণ এসব বইয়ের সম্মিলিত পাঠ আঠারো শতককে গভীর ও বিশদভাবে বুঝতে আমাকে সাহায্য করেছে।

এক কথায়, আমি জার্মান সাহিত্যের একটি শতককে এমনভাবে চিনেছিলাম যেটা বিশেষজ্ঞদের দ্বারাই কেবল সম্ভব। একইসঙ্গে অদ্ভুত ও বিচিত্র বইপত্র আমাকে এমন একটি আবহের মধ্যে নিয়ে গেলো, যে আবহের ভেতর দিয়ে আমার প্রিয় মাতৃভাষার বেড়ে ওঠা দেখতে পেয়েছিলাম। ওই গ্রন্থাগারে ধুলোয় ভরা উপন্যাস ও বীরগাথা পড়তে পড়তে জার্মান ভাষাটি ঠিকমতো শিখেছিলাম। এরপরে গ্যোটে ও আধুনিক যুগের জার্মান সাহিত্যের বিকাশকে বুঝতে বুঝতে আমার ভাষাবোধ, ভাষাগত বিবেক এত সচেতন হয়ে গিয়েছিলো যে, গ্যোটে বা জার্মান ধ্রুপদীগ্রন্থগুলোর ভেতরকার জ্ঞান, বৌদ্ধিকতাকে আর অপিরিচিত মনে হতো না। যে কারণে আজও ওই গ্রন্থগুলোর প্রতি আমার আলাদা এক ধরনের অনুরাগ আছে। আজও ওই বিরল গ্রন্থগুলো আমার নিজস্ব গ্রন্থাগারে রেখে দিয়েছি।

এসবের আরও বহু বছর পরে, আরও অনেক পড়াশোনা, ঘোরাঘুরি করতে করতে আমি টের পাই মননের আরেক নতুন জগৎ আমাকে আকর্ষণ করছে। সেই জগতের নাম প্রাচীন ভারত। কিন্তু সেই পথ নির্ঝঞ্ঝাট ছিলো না। বন্ধু-বান্ধবদের হাত দিয়ে কিছু লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। সে কালে ওই ধরনের লেখাকে বলা হতো থিওজোফিশ(১) লেখা, যার ভেতরে লুকিয়ে থাকে গূঢ় কোনো জ্ঞানের আভাস। লেখাগুলোর কিছু ছিলো মোটা-মোটা ভারী খণ্ডে গ্রন্থিত, কিছু পুস্তিকায় আবদ্ধ। আয়েশ করে পড়াই যেত না। শেখার অনেক কিছুই পেতাম কিন্তু কেন যেন বিরক্তিকর মনে হতো, মনে হতো অতি বুদ্ধিমানের ভান ধরে কেউ জ্ঞানগর্ভ কথা বলে যাচ্ছে। একদিকে এক ধরনের আদর্শবাদিতার সুর লুকানো, অন্যদিকে জগৎ-বিমুখতা। অনুকম্পা থাকলেও সে সবের ভেতর ছিলো নিষ্প্রাণ সেকেলে সংস্কারের বুলি। আমার কাছে এসব জঘন্য লাগতো। তবুও ওইসব লেখাই কিছুকালের জন্য আমাকে বেঁধে ফ্যালে। এত কিছুর পরও লেখাগুলো কেন যে আমাকে বেঁধে ফেলতে পেরেছিল সেই রহস্য কিছুদিনের মধ্যেই আমি আবিষ্কার করি।

ওইসব লেখা পড়তে পড়তে জানতে পারি, ওই আধ্যাত্মিক ঘরানার লেখাগুলো আদতে কোনো ব্যক্তির নিজের কথা নয়। অদৃশ্য কোনো মাধ্যমে পরাম্পরায় জন থেকে জনে এসব তারা জেনেছেন। ঘুরে ফিরে সবার ইঙ্গিত ছিলো আদি ভারতীয় কোনো উৎসের দিকে। সেখান থেকেই আমি অনুসন্ধান শুরু করি এবং একদিন প্রথম একটি সত্যিকারের আদি ভারতীয় গ্রন্থ আবিষ্কার করেও ফেলি। গ্রন্থটির নাম শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা। বুকের ভেতর ধুকপুকানি নিয়ে গীতার একটি অনুবাদ পড়ি। কিন্তু অনুবাদটির অবস্থা ছিলো শোচনীয়। সত্যি কথা বলতে কী, আজ পর্যন্ত গীতার অনেকগুলো অনুবাদ আমি পড়েছি, কিন্তু সত্যিকারের সুন্দর অনুবাদ কোনোটিকেই মনে হয়নি। তবুও একথা ঠিক যে, গীতা পড়ার পর মনে হয়েছে, একটি সোনার টুকরো আমার হাতে। মনে মনে একেই যেন বহুদিন ধরেই খুঁজেছি। মনে হয়েছে আমি যেন এশীয় মননের একক রূপকে ভারতীয় শরীরে আবিষ্কার করলাম।

গীতা পাঠের পর থেকেই কর্মবাদ এবং পুনর্জন্ম নিয়ে লেখা বাজারি বইগুলো পড়া বাদ দিলাম। কারণ গীতা পড়ার পর আগের বইগুলোকে আত্মম্ভরিতা, সংকীর্ণতা আর গুরুগিরির বালখিল্যতায় ভরপুর মনে হলো। সম্ভবত সে কারণেই বিরক্ত লাগতো। আমি ওসব ছেড়ে গীতার মতো জ্ঞানের প্রকৃত উৎসের অনুসন্ধান শুরু করি। পরিচিত হই ওল্ডেনব্যার্গ (Hermann Oldenberg) ও ডয়সেনের (Paul Jakob Deussen) মূল সংস্কৃত থেকে অনূদিত গ্রন্থগুলোর সঙ্গে। পড়ে ফেলি লেওপোল্ড শ্র্যোডারের ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি (Indiens Literatur und Kultur)-সহ আরও কিছু ভারতীয় কবিতার পুরোনো অনুবাদ।

ওই বছরগুলোতেই শোপেনহাওয়ারের চিন্তাজগতের পাশাপাশি প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও ভাবনার ধারা আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী কয়েক বছর ধরে আমার মনন ও যাপনে গভীর প্রভাব ফ্যালে। তবুও এক ধরনের অপূর্ণতা ও না-পাওয়ার বোধ আমার থেকেই গিয়েছিলো। কারণ প্রথমত, যেসব প্রকৃত ভারতীয় গ্রন্থের অনুবাদ আমি সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম সেগুলো যথেষ্ট ছিলো না। শুধু জার্মানে ডয়সেন অনূদিত ষাট উপনিষদ এবং নয়মান অনূদিত বুদ্ধের বাণীসমূহ আমাকে ভারতীয় জগতের বিশুদ্ধ পূর্ণ-স্বাদ ও আনন্দ দিয়েছিলো। মূল দোষটা অনুবাদের নয়। আসলে আমি আদি ভারতীয় গ্রন্থগুলোর ভেতর জ্ঞান, সম্ভাবনা ও অস্তিত্বের একটি সম্পূর্ণ জগৎ খুঁজছিলাম। ভেবেছিলাম এরকম কিছু পাবো, কিন্তু তখন পর্যন্ত ঠিক খুঁজে পাইনি।

১। থিওজোফিশ (Theosophisch): “থিওজোফিশ” পরিভাষাটি দার্শনিক-আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৮৭৫ সালে হেলেনা ব্লাভাটস্কি (Helena Blavatsky)-এর থিওজোফি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। থিওজোফি মূলত গভীর তাত্ত্বিক এক চিন্তাধারা যেখানে মানবজাতির সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধে মুখ্য। আন্দোলনটি পৃথিবীর নানা ধর্ম, মত, দর্শন ও রহস্যময় জগতের অনুসন্ধানে উৎসাহিত করে।

সূত্র: হেসে, হ্যারমান: নির্বাচিত বিশ্বসাহিত্য: পাঠ ও গ্রন্থাগার পরিকল্পনা, মূল জার্মান থেকে ভাষান্তর: অহ নওরোজ, উজান প্রকাশন, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২৫





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html