দেশে ভোট কারচুপি শুধু জুলাই অভ্যুত্থানের আগেই নয়, পরেও হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “অতীতের নির্বাচনে ফল ঘোষণার আগে ভোট চুরি হলেও সর্বশেষ নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।”
নির্বাচিত সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। না হলে আবারও মাঠে নামতে বাধ্য হবেন তারা।
গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের ট্রাফিকমোড় ওসমান চত্বরের সামনে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শহরের ফুড ল্যান্ডের সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্মীপুর সফরের অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় সার্কিট হাউজে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা পুরোনো খেলায় নতুন খেলোয়াড় হতে আসিনি, আমরা বরং খেলা পরিবর্তন করতে এসেছি। আমরা এই রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের জন্য প্রাচীর বানাতে এসেছি। তরুণ প্রজন্মকে এই দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের প্রতিটি ঘরে ঘরে যেতে হবে।”
বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনা টেনে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছিল ফল ঘোষণার আগেই। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে ভিন্ন ধরনের কারচুপি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও চূড়ান্ত ফলে বিএনপি সেই ভোট নিজেদের পক্ষে নিয়ে গেছে। এসময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেন, “আজ থেকে আপনারা (এনসিপি নেতারা) মেয়র ও চেয়ারম্যানসহ প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।”
তিনি বলেন, “জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনও সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব নয়। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গত ছয় মাসে একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারেনি।”
বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “গত ছয় মাস বিএনপির হাইব্রিড নেতা-কর্মীদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গত ১৬-১৭ বছর বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে ধানখেতে, রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। কিন্তু আজকে যখন বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তখন এসব ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সেখানে ঠাঁই হয় নাই। আমরা বিএনপির এসব ভাইদের বলতে চাই, এনসিপিতে আপনাদের জন্য দরজা সব সময় খোলা। হাইব্রিড বিএনপির ট্রেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বাসস্ট্যান্ড দখলে মূল নেতা-কর্মীরা বিরক্ত।”
জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রায়পুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব আলম, জেলা নেতা আরমান হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, সুজা উদ্দিন ও আরিফ হোসেন প্রমুখ।