দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)।
রবিবার (১২ জুলাই) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এপিইউবি জানায়, বাজেট প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে আয়কর প্রত্যাহারের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাসও পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি সংযোজন, ল্যাবরেটরি ও গ্রন্থাগারের উপকরণ ক্রয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভ্যাট ও কর পরিশোধ করতে হয়। এর পাশাপাশি ১০ শতাংশ আয়কর বহাল থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে আর এতে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বাড়াবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান অলাভজনক (নন-প্রফিট) হিসেবে পরিচালিত হয়। সে বিবেচনায় তাদের ওপর আয়কর আরোপ অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে করমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব থাকলেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা যায়নি। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত করও বহাল রাখা হয়েছে।
এপিইউবি জানায়, দেশে উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত করা জরুরি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কোনও ব্যয় নয়; এটি দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ।