ঢাকাMonday , 8 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়োগ অবৈধ, তবু পদে বহাল আড়াই লাখ টাকা বেতনের অধ্যক্ষ

UttorbongoBD
June 8, 2026 12:35 pm
Link Copied!


রাজধানীর হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষের নিয়োগকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। মাসে আড়াই লাখ টাকা বেতনের এই অধ্যক্ষকে সরিয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য তিন শিক্ষকের প্যানেল পাঠাতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশনা মানেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় রিটের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দফায় দফায় চিঠি দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

এদিকে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ‘দুর্নীতিবাজ’ অধ্যক্ষকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০২৩ সালের ১২ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্থগিত করে। ওই নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ২০ মে কর্নেল (অব.) ইমরুল কায়েসকে দুই বছরের চুক্তিতে হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয় আড়াই লাখ টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া ওই নিয়োগপত্রে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ জুনের মধ্যে তাকে যোগ দিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে বেতন বাবদ তিনি পাবেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি অফিস খরচ হিসেবে কলেজ তহবিল থেকে প্রতি মাসে আরও ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

তবে এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কলেজের শিক্ষার্থী মো. জাকির হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পর হাইকোর্ট ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দেন।

এর পর ২০২৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইমরুল কায়েসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাকে পদে বহাল রাখার বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নোটিশ দেন।

চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্ত অনুসরণ না করে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পাশ কাটিয়ে ইমরুল কায়েসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই চিঠিতে ১০ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকা থেকে গভর্নিং বডির সুপারিশক্রমে তিনজনের একটি প্যানেল পাঠাতে বলা হয়। অন্যথায় কলেজটির অধিভুক্তি কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

এরপর ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আবারও চিঠি দিয়ে অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশ দেয়। তবে দুই দফা চিঠি পাঠানো হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি।

অধ্যক্ষের মামলার খরচ কলেজ তহবিল থেকে

রিট নিষ্পত্তির নির্দেশনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তথ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস নিজের নিয়োগের বৈধতা রক্ষার আইনি লড়াইয়ে কলেজের সাধারণ তহবিল ব্যবহার করেছেন।

২০২৬ সালের ১ মার্চের একটি ভাউচারে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিট মামলার খরচ বাবদ ‘ইকুইটি লিগ্যাল অ্যালায়েন্স’ নামের একটি আইন ফার্মকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই অর্থ কলেজ তহবিল থেকে উত্তোলনের অনুমোদনে সই করেন অধ্যক্ষ নিজেই।

পদোন্নতি বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির ফাইল অনুমোদনের জন্য তাদের ওপর আর্থিক লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত স্বার্থে পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। আবার সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

এই অধ্যক্ষের আমলে স্টেশনারি সামগ্রী কেনাকাটাতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘পপি বুকস অ্যান্ড স্টেশনারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫৭ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

তবে মালামালের চালানে দেখা যায়, স্টেশনারি খাতের বাজেট থেকে সুয়ারেজ পাইপ, বেসিন রয়্যাল বোল্ট, সিঙ্ক ও জিআই পাইপের মতো হার্ডওয়্যার সামগ্রী কেনা হয়েছে। এসব পণ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ স্টেশনারি তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্যের দামও বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আর কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষ দেশের বাইরে গেছেন। আমিও লন্ডনে যাচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনও বেসরকারি কলেজে চুক্তিভিত্তিক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের সুযোগ না থাকলেও কীভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপশনে গভর্নিং বডি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা চিঠি দিয়ে জানাতে হয়। ওই সময় যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ছিলেন, তিনি ই-মেইল ও চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, তারা চিঠি পায়নি। চিঠি না পেলে একটা শোকজ আসতে পারে প্রিন্সিপাল বা গভর্নিং বডিকে উদ্দেশ করে।’

উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও অধ্যক্ষ কীভাবে পদে রয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে যখন লিখিত সিদ্ধান্ত এলো, তখন হাইকোর্টে রিট করা হলো। হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তিনজনের প্যানেল পাঠাতে বলেছে। তবে হাইকোর্ট এটাকে স্থগিত করেছে, তা নয়; যেভাবে আছে, সেভাবেই চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রিট হওয়ার পর আবার প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। গভর্নিং বডির আরও সদস্য তখন ছিলেন। সিদ্ধান্তটা কারও একার ছিল না। আমি গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করি। কিন্তু কোনও সদস্য ভিন্নমত দেননি। সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মামলার খরচ কলেজ তহবিল থেকে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মামলাগুলো কলেজ-সম্পর্কিত। স্বাভাবিকভাবেই কলেজ-সংক্রান্ত হলে সেটি কলেজেরই বিষয়। এটা ব্যক্তিগত কোনও উদ্দেশ্যে হয়নি।’

স্টেশনারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘এরকম কোনও জালিয়াতি থাকলে এবং সেটি সুনির্দিষ্ট হলে অবশ্যই তদন্ত হবে। আমি গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে স্বাধীন কমিটি করে দিয়েছি। পারচেজ কমিটি, রিপেয়ার কমিটি, অডিট কমিটি ও অর্থ কমিটি আছে। কোনও দুর্নীতি হলে কমিটিগুলো বিষয়টি দেখবে।’

বর্তমান অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডি অবৈধ পদোন্নতি বা নিয়োগ দিয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে আগে একটি অভিযোগ ছিল। সেটা আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সময়ের। বর্তমান অধ্যক্ষের সময়ে কোনও পদোন্নতি হয়নি। প্রায় ১০০ জনের আবেদন নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ড্রাইভারের বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, পরিবহন ও উৎসব বোনাস—সব মিলিয়ে তাঁর আড়াই লাখ টাকা বেতন। আর অফিস খরচ প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।’





Source link

🔴 LIVE