রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। বনানীর পূজা মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাঠজুড়ে লোকে লোকারণ্য। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকা হাতে, প্রিয় দলের জার্সি গায়ে হাজারো ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষা বিশ্বকাপ মাতানো ডিজে ও সংগীতশিল্পী সানজয়কে ঘিরে। তিনি মঞ্চে উঠতেই পুরো আয়োজন পরিণত হয় ফুটবল আর সংগীতের এক বর্ণিল উৎসবে।
সানজয়ের মঞ্চে ওঠার আগে জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হয় একটি বিশেষ প্রোমো। সেখানে দেখা যায়, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সময় পরা সেই আলোচিত পোশাকে দেশের পথে হাঁটছেন তিনি। লাল-সবুজের ছোঁয়ায় তৈরি ওই ব্লেজারে অঙ্কিত ছিল বাংলাদেশের পতাকা ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতীক, যা বিশ্বমঞ্চে দেশের পরিচয় বহন করেছিল। প্রোমো শেষ হতেই করতালির মধ্যে মঞ্চে ওঠেন সানজয়। তবে বিশ্বকাপের সেই পোশাকের বদলে এদিন তিনি হাজির হন কালো জ্যাকেটে।
মঞ্চে উঠেই বাংলা লোকগানকে ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিকের (ইডিএম) আধুনিক বিটে নতুনভাবে উপস্থাপন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। ‘মাগো মা ঝি গো ঝি’, ‘আইজ পাশা খেলবো রে শ্যাম’, ‘সাদা সাদা কালা কালা’, ‘চুমকি চলেছে একা পথে’ এবং ‘মেলায় যাইরে’—একটির পর একটি গানে নেচে-গেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দর্শকরা। লোকসংগীতের সুর আর আন্তর্জাতিক মানের ইডিএম সাউন্ডের মেলবন্ধনে বনানীর পূজা মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল নৃত্যমঞ্চে।
এরপর ঢাকের তালে ইলেকট্রনিক বিটে পরিবেশন করেন সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কার জন্যে করিলা মায়া’। দেশীয় বাদ্যযন্ত্র আর আধুনিক সংগীতের এই মেলবন্ধনও দর্শকদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করে।
শেষ পর্বে শাকিরার বিশ্ববিখ্যাত বিশ্বকাপ সংগীত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ পরিবেশন করে ফুটবল উন্মাদনাকে আরও তুঙ্গে নিয়ে যান সানজয়। এরপর ভক্তদের জন্য বিশেষ চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো শোনান এখনও প্রকাশ না পাওয়া আনরিলিজড ট্র্যাক ‘একা একা নাচে সে’। নতুন গানটির ঝলক পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত দর্শকরা।
সবশেষে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। কনসার্টের সমাপনী পরিবেশনা হিসেবে সানজয় গেয়ে ওঠেন বিশ্বকাপ মাতানো ‘সির সির’। গানের প্রথম সুর বাজতেই উন্মাতাল হয়ে ওঠে ফুটবলপ্রেমী তারুণ্য। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকা হাতে হাজারো দর্শক একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান। মোবাইল ফোনের আলো, করতালি আর উল্লাসে বনানীর পূজা মাঠ যেন মুহূর্তেই রূপ নেয় এক বিশাল ফুটবল উৎসবে। ‘সির সির’-এর তালে নেচে-গেয়ে বিশ্বকাপের আবহে মেতে ওঠেন উপস্থিত সবাই।
গান শেষে দর্শকদের পক্ষ থেকে সানজয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। দুই হাত উঁচিয়ে পতাকাটি ওড়াতে থাকেন তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সানজয় বলেন, “এটাই আমার জীবনের সেরা উপহার।” এরপর দর্শকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমি আবার আসব। এটা চ্যাপ্টার ওয়ান মাত্র। আগামী নভেম্বরে আবার আসছি।” তার এই ঘোষণায় আবারও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকরা। করতালি, উল্লাস আর লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে শেষ হয় বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই শিল্পীর বহুল প্রতীক্ষিত হোমকামিং কনসার্ট।