ঢাকাThursday , 30 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রিকেটার থেকে যেভাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আতঙ্ক, সেকেন্ড ইন কমান্ড


July 30, 2026 12:10 pm
Link Copied!


তিন বছর আগেও ছিলেন ক্রিকেটার। এর মধ্যে গত দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রামের অপরাধজগতে পরিচিত হয়ে ওঠেন ডেভিড ইমন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি, একের পর এক হত্যা, অস্ত্রবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার নাম উঠে এসেছে বারবার। হয়ে উঠলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক বড় আতঙ্ক। সেই সঙ্গে বনে যান আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। 

মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন মূলত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে এক আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন এবং মাত্র এক-দেড় বছরের মধ্যে একাধিক খুন ও বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি করে পুলিশের তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জায়গা করে নেন। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। ২০২২ সালের পর তিনি পুরোপুরি ছাত্ররাজনীতি ও পরে অপরাধ জগতে জড়ান এবং তার অনুসারী শুটারদের বয়সও ২০-২৫ বছর।

যেভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠেন 

ইমনের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তিনি ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট খেলতেন এবং এসএসসি পাস করার পর ওমানে যান। বছরখানেক পর দেশে ফিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অপরাধ জগতে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন। 

ডেভিড ইমন

বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড 

বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন। আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান মিলে পুরো চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন।

অস্ত্র চালনায় দক্ষতা ও গ্যাং পরিচালনা

পুলিশ জানায়, ইমন অত্যন্ত নিখুঁত নিশানা এবং অস্ত্র চালনায় দক্ষ। তার অধীনে প্রায় ৫০ জন শুটার ও সক্রিয় অপরাধীর একটি দল রয়েছে। তার বেশ কিছু পিস্তল হাতে ছবি ও কলরেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

একাধিক হত্যা ও চাঞ্চল্যকর অপরাধ

মাত্র ২ বছরের ব্যবধানে তিনি অন্তত ৭টি হত্যা মামলাসহ ১৫টির বেশি মামলার আসামি হন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন, পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ড এবং চন্দনপুরায় ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট-এ দুই কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে সশস্ত্র হামলা অন্যতম।

ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর মোবারক হোসেন ইমন কীভাবে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তা নিয়ে রয়েছে নানা তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় থেকেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিজের ভয়ংকর সাহসের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পায় ডেভিড ইমন। সাজ্জাদ গ্রুপের কার্যক্রম চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত ছিল। পাশাপাশি জেলার রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায়ও এ চক্রের সদস্যদের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, অস্ত্র পরিচালনায় বেশ পারদর্শী ডেভিড ইমন। তার ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের আরেক সহযোগী ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে যাওয়ার পর ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম মাঠপর্যায়ে বড় সাজ্জাদের হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনের নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় আলোচিত জোড়া খুনে নাম উঠে আসে তার। একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়। সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় আবারও আলোচনায় আসেন এই ডেভিড ইমন।

চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমির সাবেক কোচ আমিনুল হক বলেন, ‘ইমন খুবই ভালো ক্রিকেট খেলতেন। বাঁহাতি লেগ স্পিনার (চায়নাম্যান) হিসেবে তার ভালো পরিচিতি ছিল। ব্যাটিংও ভালো করতেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড় কিংবা বিদেশি দলের খেলোয়াড়েরা চট্টগ্রামে এলে নেট অনুশীলনে ইমন বল করতেন। তার ভালো সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই খেলা থেকে উধাও হয়ে যায়। ২০২০ সালের পর তাকে আর দেখা যায়নি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। শৈশবে তিনি একজন ভালো ক্রিকেটার ছিলেন এবং ওমানেও কিছুদিন প্রবাসী হিসেবে ছিলেন। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইমন চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী এলাকার আতুরার ডিপো এলাকায় আত্মগোপন করেন। সেখানে অপরাধ চক্রের সংস্পর্শে আসেন।এর কিছুদিন পরই বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে ইমন চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ নেন। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের অধীনে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের মজুত ছিল এবং তিনি অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। তিনি প্রায় ৫০ জন শুটার ও অপরাধীর একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।

মামলা ও প্রধান প্রধান অপরাধ

ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের অধীনে কমপক্ষে ১৫টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি আলোচিত অপরাধের মামলার আসামি হন। 

ডেভিড ইমন

ডিজিটাল ডট নেট অফিসে হামলা 

গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের চকবাজারের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন করে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন ডেভিড ইমন। চাঁদা না দেওয়ায় তার নির্দেশে প্রায় ৩০-৩৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী উক্ত অফিসে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনাটির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

বাকলিয়া জোড়া খুন 

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সংগঠিত চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইমন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য শুটার ও মোটরসাইকেল ভাড়ার মূল দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন।

ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ড 

২০২৫ সালের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ডেভিড ইমনকে প্রধান আসামি করা হয়।

স্মার্ট গ্রুপের পরিচালকের বাড়িতে গুলি 

চলতি বছরের শুরতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। গত ২ জানুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ পাহারার মধ্যেই গুলিবর্ষণের ঘটনার পেছনে ইমনের নির্দেশ ছিল।

যেভাবে গ্রেফতার হলেন

২৫ জুলাই চট্টগ্রামের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক থেকে ইমনের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসিফ ও আরিফকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও যশোর জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। ২৯ জুলাই ভোরে ছদ্মবেশ ধারণের জন্য গোঁফ কেটে, ‘মিরাজ’ নাম ব্যবহার করে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর চেকপোস্টে ইমন ও তার তিন শুটার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে সন্ত্রাসী ইমন। লোকজনকে ফোনে ইমন এমনভাবে হুমকি দিতেন, শুনলেই মানুষ খুব সহজে ভয় পেয়ে যেতো। অস্ত্রও ভালো চালাতে পারেন। ভয়ংকর শুটার। একাধিক হত্যাকাণ্ড, অপরাধ এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html