কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটজিপিটির ‘জিপিটি-৪’ ব্যবহার করে মাত্র ১০০ শব্দের একটি ইমেইল জেনারেট করতে গড়ে প্রায় ৫১৯ মিলিলিটার পানি ব্যবহার করে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইডের গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, ওপেনএআই-এর ‘জিপিটি-৪’ মডেল সচল রাখতে এবং এর ডেটা সেন্টারগুলো ঠান্ডা রাখতেই বিপুল পরিমাণ এ পানি ব্যবহৃত হয়।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ১০ জন চাকরিজীবীর অন্তত একজনও যদি সপ্তাহে মাত্র একবার চ্যাটজিপিটি দিয়ে একটি ইমেইল লেখেন, তবে বছরে প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি অপচয় হবে-যা আমেরিকার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের দেড় দিনের মোট পানি ব্যবহারের সমান।
এছাড়া ১০০ শব্দের একটি ইমেইল তৈরিতে আনুমানিক ০.১৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়, যা দিয়ে ১৪টি এলইডি বাল্ব টানা এক ঘণ্টা জ্বালানো সম্ভব। বছরে সপ্তাহে একবার করে ব্যবহার করলে একজনের বিদ্যুৎ খরচ হয় প্রায় ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মজীবী প্রতি ১০ জনে একজন এভাবে ব্যবহার করলে মোট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা, যা ওয়াশিংটন ডিসির সব পরিবারের প্রায় ২০ দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান।
গবেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ডেটা সেন্টারের সার্ভারগুলোকে বিপুল পরিমাণ গণনা করতে হয়। এতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি বা বিদ্যুৎনির্ভর কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো প্রশ্নের জন্য কত পানি বা বিদ্যুৎ লাগবে, তা ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও কুলিং প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
শুধু ব্যবহার নয়, এআই মডেল প্রশিক্ষণেও বিপুল সম্পদের প্রয়োজন হয়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল ‘জিপিটি-৩’ মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিতেই আগে প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি খরচ হয়েছিল, যা আধুনিক এআই প্রযুক্তির পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে । অন্যদিকে মেটার লামা-৩ মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি।
জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ ক্রমবর্ধমান ব্যবহার স্থানীয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।
যদিও গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই ও মেটা আরও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, গবেষকদের মতে এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সম্পদের চাহিদাও নজিরবিহীন হারে বাড়ছে। তাদের ভাষায়, এআইয়ের উত্থান ডেটা সেন্টার শিল্পের সামনে এমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যার মুখোমুখি আগে কখনো হতে হয়নি।