ঢাকাWednesday , 4 November 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবদুল এল-সাইয়েদ: মুসলিম পরিচয় ছাড়িয়ে তার জয়ের তাৎপর্য যেখানে


November 4, 2026 6:30 pm
Link Copied!


যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

এক হাড্ডাহাড্ডি ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন এল-সাইয়েদ। প্রচারণাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ট্রাম্প এল-সাইয়েদের মধ্যবর্তী নাম ‘মোহাম্মদ’-এর ওপর জোর দিয়ে ধর্মীয় পরিচয় সামনে আনলে তিনি কড়া জবাবে বলেন, ভাই, তোমার জন্য আমি ‘সিনেটর মোহাম্মদ’ হবো।

তবে সিনেটর মোহাম্মদের এই বিজয় কেবল তার ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, মার্কিন রাজনীতি এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে এর বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে।

কে এই আবদুল এল-সাইয়েদ?

৪২ বছর বয়সী এল-সাইয়েদের জন্ম মিশিগানে। মিসরীয় অভিবাসী বাবা এবং মিশিগানের স্থানীয় সৎমায়ের কাছে তিনি বেড়ে ওঠেন। পাবলিক স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ফুটবল, কুস্তি ও ল্যাক্রোস খেলায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন এবং রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

মেডিক্যাল স্কুলে এক রোগীর চিকিৎসার পর তিনি ব্যক্তিগত রোগীর বদলে পদ্ধতিগত বা রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং চিকিৎসা চর্চা না করার কথা জানান। স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে বই লেখা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি অ্যান আর্বারের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সারাহ জুকাকুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যার মা-বাবা ভারতীয় অভিবাসী ছিলেন।

কেমন ছিল এল-সাইয়েদের প্রচারণা?

নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজদের মতো এল-সাইয়েদ নিজেকে ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে দাবি করেননি। তবে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার মতো কর্মজীবী মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি সর্বজনীন ‘মেডিকেয়ার’ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে কোনও প্রিমিয়াম, কো-পে বা ডিডাক্টিবল ছাড়া সব প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়।

মজার বিষয় হলো, মার্কিন উৎপাদন খাত ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি ট্রাম্পের কিছু বক্তব্য সমর্থন করেন। তার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়, নাফটার মতো বাণিজ্য চুক্তিগুলো মার্কিন উৎপাদন ধ্বংস করেছে এবং ট্রাম্পের অসংলগ্ন শুল্ক নীতি পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তাই তিনি মিশিগানের শিল্প সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট শুল্কের পক্ষে মত দেন।

এ ছাড়া, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসের বিষয়ে ইসরায়েল ও তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত সহায়তার তীব্র সমালোচনা করেন এল-সাইয়েদ। তার এই অবস্থানের কারণে ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট সমর্থক ইহুদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে তার পাশ থেকে সরে গিয়ে রিপাবলিকান রজার্সকে সমর্থন দেন।

প্রচারণায় রজার্স তার নাম নিয়ে কথা বললে এল-সাইয়েদ কড়া ভাষায় বলেন, মাইক, শোনো ভাই, নাম বলতে না পারলে নামটা মুখে এনো না, আমার নাম আবদুল রহমান। এরপর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার নাম কিন্তু আপনার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে না, যুদ্ধে পাঠাচ্ছে না বা মুদির পণ্য কেনা কঠিন করছে না। করছে তাদের বাজে নীতিগুলো।

এই বিজয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব

নির্বাচনের আগে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তবে উচ্চমূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের অসন্তোষের ফলে ডেমোক্র্যাটরা বড় ধরনের ‘নীল ঢেউ’ অর্জন করেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৫টি আসন পেয়ে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্টের ক্যাবিনেট সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এল-সাইয়েদের জয় এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের একক নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বড় ধাক্কা দেবে। একই সঙ্গে তার এই জয় প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ বা ইসরায়েলকে অন্ধ সমর্থনের বদলে জনকল্যাণ ও অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্য কেবল নিউ ইয়র্কের মতো প্রগতিশীল এলাকাতেই নয়, দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html