২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠে চলছে লড়াই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জগতেও চলছে আরেক ধুন্ধুমার প্রতিযোগিতা। যাচাই করা হচ্ছে কে কার চেয়ে বেশি নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী দিচ্ছে কিংবা কারা দিচ্ছে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ। চীনের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) এখন ম্যাচের ফলাফল ও চ্যাম্পিয়ন দল পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনে নেমেছে প্রযুক্তির সাইডলাইনে।
চীনের জনপ্রিয় এআই মডেলগুলোর মধ্যে কোয়েন, ডিপসিক, কিমি এবং মিনিম্যাক্স বিশ্বকাপ ম্যাচের ফলাফল পূর্বাভাস দেওয়ার বিশেষ ফিচার চালু করেছে। এর মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রয়োগের নতুন পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।
চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও এআই বিশেষজ্ঞ কুও থাও বলেন, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর হিসেবে বিশ্বকাপ এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের মডেলের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে।
বিভিন্ন এআই প্লাটফর্ম ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রমও চালু করেছে। মুনশট এআইয়ের কিমি এক ট্রিলিয়ন টোকেনের পুরস্কার তহবিল ঘোষণা করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ম্যাচের বিজয়ী ও চূড়ান্ত চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে পুরস্কার জিততে পারবেন। অন্যদিকে, বিশেষ ম্যাচ পূর্বাভাস সহকারী চালুর পাশাপাশি ‘মানুষ বনাম এআই’ ভবিষ্যদ্বাণী প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেছে আলিবাবার কোয়েন।
তবে বিশ্বকাপ এআই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, রবিবার ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার গ্রুপ-সি ম্যাচের আগে অধিকাংশ এআই মডেল পরিসংখ্যান ও অতীত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ব্রাজিলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
কো থাও বলেন, এআই ঐতিহাসিক তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দক্ষ হলেও বাস্তব বিশ্বের অনেক অনিশ্চিত উপাদান সঠিকভাবে বিবেচনা করতে পারে না। ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা, কৌশলগত পরিবর্তন, আবহাওয়া ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির মতো নানা বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলে, যা নির্ভুলভাবে মডেল করা কঠিন।
বেইজিং একাডেমি অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সভাপতি ওয়াং চোংইউয়ান সম্প্রতি বলেন, বর্তমান বৃহৎ ভাষা মডেলগুলো ডিজিটাল জগতের সমস্যা সমাধানে দক্ষ হলেও বাস্তব জগতের জটিলতা বোঝার ক্ষেত্রে এখনও নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে কেবল মডেলের আকার নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারার সক্ষমতাই এখন এআই কোম্পানিগুলোর প্রধান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।
শাংহাই ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকসের অধ্যাপক হু ইয়ানপিং বলেন, বৃহৎ ভাষা মডেল ও এআই এজেন্টগুলো ধীরে ধীরে কথোপকথন-ভিত্তিক সিস্টেম থেকে কাজ-ভিত্তিক সিস্টেমে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো পূর্বাভাসমূলক প্রকল্পগুলো এ ধরনের বাস্তবমুখী সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: সিএমজি