ঢাকাWednesday , 15 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঋণ করে বিলাসিতা নয়, ব্যয় কমানোর পথে সরকার


July 15, 2026 7:05 am
Link Copied!


সরকারি ব্যয় কমিয়ে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। উপসচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য সুদমুক্ত গাড়ি কেনার ঋণ সুবিধা স্থগিতের পর এবার সরকারি কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পূর্ণ বৃত্তি বা ফেলোশিপ নিয়ে দেশে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রেষণে (ডেপুটেশন) না পাঠিয়ে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সরকারের ব্যয় কমবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আগের মতো পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো দুটি পৃথক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। অর্থ বিভাগের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি অর্থের অপচয় কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামতে পারে

বর্তমানে প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা সুদমুক্ত ঋণে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার পর গাড়ি সেবা নগদায়নের আওতায় মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা পান। অর্থ বিভাগ এই ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এ সুবিধা কমানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে সরকার উপসচিব থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ সুবিধাও আপাতত স্থগিত করেছে। অর্থাৎ গাড়ি-সংক্রান্ত সুবিধাগুলো ধাপে ধাপে সীমিত করার পথে হাঁটছে সরকার।

বিদেশে পড়তে গেলে মিলতে পারে শিক্ষা ছুটি

অর্থ বিভাগের আরেকটি চিঠিতে সরকারি কর্মকর্তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা পূর্ণ স্কলারশিপ বা ফেলোশিপ নিয়ে দেশে বা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গেলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে প্রেষণে পাঠানো হয়। ফলে তিনি একদিকে স্কলারশিপের অর্থ পান, অন্যদিকে সরকারি চাকরির পূর্ণ বেতন-ভাতাও ভোগ করেন।

অর্থ বিভাগের মতে, যেহেতু স্কলারশিপের আওতায় পড়াশোনা, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা হয়, তাই প্রেষণের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পূর্ণ বেতনের পরিবর্তে শিক্ষা ছুটির বিধান অনুযায়ী সীমিত আর্থিক সুবিধা পাবেন।

ধারাবাহিক কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন নয়; বরং চলতি অর্থবছরে ঘোষিত সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচিরই ধারাবাহিকতা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা স্থগিত রাখা, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা, ভূমি অধিগ্রহণে কড়াকড়ি, নতুন ভবন নির্মাণ সীমিত করা, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় কমানো এবং ভ্রমণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো।

সরকারি কেনাকাটায় ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত

এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে সরকারি গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় অর্ধেকে নামানো এবং সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে কঠোর সাশ্রয়ী নীতিও কার্যকর করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও ব্যয় সংকোচনের বার্তা দিতে বেশ কিছু প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল, সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং সরকারি বহরের আকার ছোট করার মতো উদ্যোগকে সরকারের মিতব্যয়ী অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন এই ব্যয় সংকোচন?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের সামনে একদিকে রাজস্ব আদায়ের চাপ, অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়, ঋণের সুদ ও ভর্তুকির বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এ অবস্থায় সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে আর্থিক চাপ কমাতে চাইছে সরকার। বিশেষ করে যেসব খাতে সরাসরি প্রশাসনিক ব্যয় হয়, সেখানে কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মত

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয়ে সংযমের বার্তা ইতিবাচক হলেও শুধু ভাতা কমিয়ে বা কিছু সুবিধা সীমিত করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না।

তাদের মতে, প্রকৃত সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় কমানো, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই করতে পারে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিচালন ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। অর্থনীতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত মিতব্যয়ী নীতি অব্যাহত রাখা উচিত।

তার ভাষায়, ‘ঋণ করে বিলাসিতা করার সময় এখন নয়। সরকারের প্রতিটি ব্যয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। বিশেষ করে নতুন নতুন প্রকল্পের নামে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।’

আবু আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এমপিওভুক্তির মতো অতিরিক্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি করাও সমীচীন হবে না। অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর ফিরে না আসা পর্যন্ত সরকারকে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের ব্যয় সংযমের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব আহরণ এবং বাজেট ঘাটতির চাপের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিশেষ করে যেসব খাতে সরকারি ব্যয়ের সরাসরি সাশ্রয় সম্ভব, সেখানে কৃচ্ছ্রসাধন যৌক্তিক।’

তার মতে, ‘শুধু কর্মকর্তাদের গাড়ি-সংক্রান্ত সুবিধা বা অন্যান্য ভাতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের আর্থিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। প্রকৃত সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় কমানো, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর আদায় বাড়ানোর ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আহরণ—এই দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে সংস্কার হলে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ বাস্তব অর্থে ফলপ্রসূ হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়েছে, সাধারণ মানুষকে মিতব্যয়িতার আহ্বান জানানোর আগে সরকার নিজস্ব ব্যয়ও কমাতে চায়। গাড়ি কেনার ঋণ স্থগিত, রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা কমানো, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা সীমিত করা, নতুন গাড়ি ও ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি; সব মিলিয়ে সরকারি ব্যয়ে সংযমের একটি ধারাবাহিক নীতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html