ভারতের খাদ্য সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এর রন্ধন ঐতিহ্য ধরে রাখায় এ দেশের রেস্তোরাঁগুলোর ভূমিকা অনবদ্য। রাজকীয় রান্নাঘর থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত ভোজনালয়, বাইরে খাওয়ার অভ্যাস ভারতীয় নগরজীবনের বহু পুরোনো অংশ। দেশটিতে এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো বেশ কিছু আইকনিক রেস্তোরাঁ রয়েছে, যা বংশপরম্পরায় গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এই দীর্ঘ ইতিহাসের ভিড়ে প্রায়ই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, ভারতের সবচেয়ে প্রাচীনতম রেস্তোরাঁ কোনটি?
দালিলিক তথ্যের অভাব থাকায় ভারতের প্রাচীনতম রেস্তোরাঁর বিষয়টি একেবারে সরাসরি বলা কঠিন। তবে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের সিএসটি এলাকার কাছে অবস্থিত পঞ্চম পুরীওয়ালাকে ব্যাপকভাবে ভারতের অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ বলে মনে করা হয়, যার পথচলা শুরু হয়েছিল ১৮৪৮ সালে। মুম্বাইয়ের অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ভোজনালয়টি দীর্ঘ সময় ধরে তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ের খাদ্য সংস্কৃতির বিবর্তন হলেও এই রেস্তোরাঁটি তার সাদামাটা ও জাঁকজমকহীন আদি পরিচয় ধরে রেখেছে।
ঐতিহ্যবাহী রেসিপি ও স্বাদের ধারাবাহিকতাই পঞ্চম পুরীওয়ালার জনপ্রিয়তার মূল রহস্য। আধুনিক কোনও ট্রেন্ড বা বিশাল মেন্যুর দিকে না ঝুঁকে তারা শুরু থেকেই সাধারণ কিন্তু সুস্বাদু খাবারের ওপর জোর দিয়ে আসছে। এখানকার সিগনেচার পদ পুরি ভাজি নিয়মিত গ্রাহক থেকে শুরু করে নতুন দর্শনার্থী সবারই সমান পছন্দের। এই রেস্তোরাঁটি এখন মুম্বাইয়ের সাংস্কৃতিক কাঠামোর অংশ হয়ে উঠেছে, যেখানে খেতে গেলে মনে হয় যেন অতীতে ফিরে যাওয়া হয়েছে।
এখানে মূলত ঐতিহ্যবাহী রেসিপিতে তৈরি গরম গরম ও তাজা পুরি ভাজি, ছোলা পুরি এবং আলু সবজি পাওয়া যায়। খাবারের মান ও স্বাদ ধরে রাখার জন্য তারা সীমিত মেন্যুর ওপরই মনোযোগ ধরে রেখেছে। বছরের যেকোনও সময়ই এখানে যাওয়া যায়, তবে তাজা ও গরম খাবার উপভোগ করার জন্য সকাল এবং দুপুরের শুরুর দিকটা সবচেয়ে ভালো সময়। লাঞ্চের সময় এবং বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এখানে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। যারা মুম্বাই শহরের আদি খাদ্য সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য দক্ষিণ মুম্বাইয়ের এই রেস্তোরাঁটি একটি অবশ্য দর্শনীয় স্থান।
সূত্র: এনডিটিভি