পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস, ২০২৬’ পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক আন্দোলন বা অর্জন নয়; এটি ছিল স্বৈরাচারমুক্ত মানবিক সমাজ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, সাহস ও আত্মত্যাগের ফসল। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে দল-মত-পথ নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
আলোচনা সভায় ইসলামাবাদে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পাথফাইন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান ইকরাম সেহগাল, ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত আসিফ আলী খান দুররানি, ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল (অব.) জাহিদ মাহমুদ, ইসলামাবাদ ম্যারিয়ট হোটেলের পরিচালক আমনা সালমান কাদির এবং জং গ্রুপের বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক এম সালেহ জাফির।
বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের অবদান স্মরণ করেন। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মদান রাষ্ট্রের শক্তির প্রকৃত উৎস জনগণ—এই সত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। জুলাইয়ের চেতনা মানবিক, স্বৈরাচারমুক্ত, সমতাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা জোগায়। একই সঙ্গে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার, দমন-পীড়ন এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিস্তারের বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।