কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হওয়া ওঝা ইমরান হোসেন (৩৮) পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে খোঁজ নিতে গেলে আইসিইউর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক-নার্সরা বিষয়টি জানান। তারা জানান, ইমরান পূর্ণ চিকিৎসা না নিয়েই সকালে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্তান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
পূর্ণ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইমরান হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাংবাদিক আর ইউটিউবের লোকজন খুব জ্বালাতন করতেছিল। রাতদিন এসেই একই প্রশ্ন করছিল বারবার। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছে। তাই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে আসছি।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, ‘শনিবার রাতেই ইমরান হোসেন কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। রবিবার সকালে আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি পূর্ণ সুস্থ হননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়ে হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হচ্ছে।’
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. ইকবাল হাসান বলেন, ‘সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিত সবার।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে একটি গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় সাপটি তার হাঁটুর ওপরে ছোবল দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। সম্রাটের মৃত্যুর পর শুক্রবার বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে ইমরানকে খবর দেন। বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করেন তিনি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করেন। সাপটি ধরার প্রায় দেড় মিনিটের মধ্যে অসাবধানতাবশত সেটি তার হাঁটুর ওপরে কামড় দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
এ ঘটনার পর ইমরান হোসেনের একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডে তিনি নিজেকে সাপুড়িয়া হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাপ ধরা ও সাপের বিষ ঝাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করার দাবি করেছেন। তবে ওঝা হয়ে চিকিৎসা নেওয়ায় সমালোচিত হন।