এডেন উপসাগরের মাধ্যমে লোহিত সাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করা বাব এল-মানদেব প্রণালিতে সৌদি আরব সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা নিষেধাজ্ঞা ও হামলার হুমকি দেওয়ার পর ভারত ও চীনগামী দুটি সৌদি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার লোহিত সাগর থেকে পথ পরিবর্তন করে ঘুরে গেছে।
হরমুজ প্রণালির পর বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এশিয়ায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিলম্বিত হওয়া, ফ্রেইট ও বিমা মাশুল বৃদ্ধি পাওয়া এবং তেলের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার হুথিরা বাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়। বাব এল-মানদেব পুরোপুরি বন্ধ না হলেও জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে রুট পরিবর্তন করা শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে এই করিডোরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে ফুটিয়ে তুলছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা হুদাইদাহ এবং এডেন উপসাগরের ওপর উঁচু অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে বাব এল-মানদেব প্রণালিতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং কেবল নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাব এল-মানদেব দিয়ে দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এর প্রায় অর্ধেকই লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে লোড করা সৌদি তেল। আর বাকি তেলের বড় অংশ ভারতগামী ও কিছু অংশ চীনগামী রাসায়নিক পণ্য ও তেল।
বৈশ্বিক বাণিজ্য তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তেল বাজার ও শোধনাগারবিষয়ক ম্যানেজার সুমিত রিতোলিয়া বলেন, এশীয় শোধনাগারগুলোর জন্য লোহিত সাগর এখন হরমুজ প্রণালির মতোই একটি কৌশলগত পয়েন্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এখানে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি তেল শোধন, অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা, ফ্রেইট মাশুল এবং আঞ্চলিক পণ্য সরবরাহে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।
সৌদি আরব তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়ানবু বন্দরে তেল নিয়ে যেতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন-এর ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে, যাতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রফতানি করা যায়। গত জুনে ইয়ানবুর মাধ্যমে তেল রফতানির পরিমাণ বেড়ে দৈনিক ৪১.৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরা বন্দর দিয়ে প্রথাগতভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৬৪ শতাংশ।
রাস তানুরা থেকে পারস্য উপসাগরের বাইরে সরাসরি তেল পাঠাতে হলে জাহাজগুলোকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে তেল স্থানান্তরের এই সৌদি কৌশলের কারণে এশিয়ায় তেল রফতানির ক্ষেত্রে লোহিত সাগরের রুটটি এখন তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট