ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুবলীগ কর্মী হত্যায় যাবজ্জীবন আফরোজার, বললেন, ‘যত খুশি ভিডিও করেন, দেহুক সবাই’


July 29, 2026 9:15 pm
Link Copied!


ময়মনসিংহে যুবলীগের এক কর্মীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ ফারহানা ফেরদৌস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারীর নাম আফরোজা শেখ ওরফে ইতি। তিনি নিহত যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে সপুর (২৫) দ্বিতীয় স্ত্রী।

রায় ঘোষণার পর আসামিকে আদালত থেকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এজলাশ থেকে বের করার সময় আফরোজাকে বিমর্ষ হওয়ার বদলে হস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কারাগারে পাঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাসতে হাসতে বলতে থাকেন, ‘যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।’

রায়ের পর নিহত শফিকুল ইসলামের মা ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার জানান, তিনি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার ঘটনার পর তিন দিন ধরে খোঁজাখুঁজির নাটক করে আফরোজা। আমার ছেলে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম। রায় হওয়ার পর আসামি হাসতে হাসতে গেলো, বলতে থাকলো, “চিন্তা কইরো না, আমি আবার আইতাছি। আবার আয়া খেলবাম।” আমাদের নিরাপত্তা দেওন লাগবো। রায়ে আমি সন্তুষ্ট না, এই বিচার আমি মানি না।’

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরের বাঁশবাড়ী কলোনি এলাকার বাসিন্দা সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রথমে মাহমুদা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে আফরোজা শেখকে বিয়ে করেন শফিকুল। একপর্যায়ে আফরোজা জানতে পারেন, তার স্বামী প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১৯ সালের ১০ জুন আফরোজা শেখ পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে প্রায় ২০০টি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পাশের একটি পচা পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন। ঘটনার তিন দিন পর স্থানীয় লোকজন পুকুরে মানুষের একটি হাত ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় শফিকুলের মা নুরুন্নাহার বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১৩ জুন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আফরোজা শেখ ও তার বড় ভাই দীন ইসলামকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে আফরোজার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আসামি একজন নারী এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আফরোজা শেখের ভাই শেখ সাব্বির জানান, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তার দাবি, তার বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন; তাকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

সাব্বিরের ভাষ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করায় তাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তার বোন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার একটি সন্তান থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। তারা শুরু থেকেই খালাস প্রত্যাশা করেছিলেন।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html