২০০৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক হকিতে অভিষেক হয়েছিল রাসেল মাহমুদ জিমির। এরপর টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি।
তবে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ‘বয়সজনিত কারণ’ দেখিয়ে তাকে জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্প থেকে বাদ দেয় বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। সিদ্ধান্তটি দেশের হকি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ায় আবারও জাতীয় দলে ফেরার আশা দেখছেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।
বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী জিমি আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায় নিতে চান। তবে সেই বিদায়টা তিনি নিতে চান জাতীয় দলের জার্সি গায়ে, দেশের হয়ে শেষবার মাঠে নেমে। লক্ষ্য আগামী এশিয়ান গেমস।
এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে জিমি বলেছেন, ‘আমি ২৩ বছর ধরে জাতীয় পর্যায়ে হকি খেলে আসছি। আমি চেষ্টা করেছি লাল সবুজ জার্সি গায়ে দেশকে কিছু দিতে। আমার শুরুটা হয়েছিল দারুণভাবে। আমি চাই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আমার শেষটা হোক ভালোভাবে। তাই আবারও জাতীয় দলে ফিরে শেষটা ভালো খেলতে চাই। এর জন্য এশিয়ান গেমসে খেলার আশায় আছি।’
বর্তমান জাতীয় দলে জায়গা নেই জিমির। তবে জার্মানি থেকে নতুন প্রধান কোচ গেরহার্ড পিটারসহ কোচিং স্টাফ দায়িত্ব নিতে আসছেন। নতুন কোচের অধীনে আবারও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। জিমির ভাষায়, ‘দেখুন সময় থাকতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমি এখনও ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছি। নিজেকে ফিট রাখছি। আশা করছি নতুন কোচ এসে আমাকে সুযোগ দেবেন।’
প্রায় দেড় বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময়টা যে সহজ ছিল না, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তার কথা, ‘এই সময়টা মোটেও ভালো যায়নি। আমার সংস্থা নৌবাহিনী আমার পাশে ছিল। আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা নতুন করে বলার কিছু নেই। এখন নতুন কমিটি ইতিবাচক কিছু করবে- এটাই প্রত্যাশা।’
এরই মধ্যে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্যও হয়েছেন জিমি। মাঠ ছাড়ার পর কোচিং কিংবা সংগঠক হিসেবে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে তার আগে শেষবারের মতো দেশের হয়ে খেলতে চান তিনি।
জিমি বলেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া হকি বেশি দিন খেলবো না। সুযোগ পেলে এশিয়ান গেমস দিয়ে আন্তর্জাতিক হকি থেকে বিদায় নিতে চাই। এরপর ঘরোয়া কিছু দিন খেলে পুরোপুরি মাঠ থেকে বিদায় নেবো। তখন কোচিং বা সংগঠনের হয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। সবকিছু এখন নির্ভর করছে এশিয়ান গেমসে সুযোগ পাওয়া নিয়ে।’
জিমির সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ এবং হকি ফেডারেশনের সদস্য মাহবুব হারুন।
তিনি বলেছেন, ‘জিমি বাংলাদেশের হকিতে দীর্ঘদিন ধরে খেলে আসছে। আমরা মনে করি তার বিদায়টা ভালোভাবে হোক। এই বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। এখন এশিয়ান গেমস দিয়ে কিছু করা যায় কিনা দেখা হচ্ছে।’
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে রাসেল মাহমুদ জিমির একটাই প্রত্যাশা—জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেওয়া।