দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভারতীয় নাগরিক প্রবীর মন্ডলের লাশ পড়ে আছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে। আইনি জটিলতা আর ভারতীয় হাইকমিশনের দায়িত্বহীনতার জন্য লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর কিংবা এখানেই দাহ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রবীর মন্ডলের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিমচা মৈত্রী স্ট্রিটের এম আলম বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম মহাদেব মণ্ডল।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দফতর ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় প্রবীর মন্ডল নামে এক ভারতীয় নাগরিকের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তখন প্রবীর মন্ডলের বয়স ছিল ৪০ বছর। দুই মাস পর নভেম্বর মাসে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে আসেন। সেখানে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পাটগ্রাম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, প্রবীর মন্ডলের পোশাক থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পাসপোর্টে দেখা যায়, তিনি ২০১৭ সালের ৩ মার্চ তিন মাসের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরে যান। তবে এরপর কীভাবে তিনি আবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে প্রবীর মন্ডলের লাশটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে।
এদিকে হিমঘরের দায়িত্বে থাকা এক ডোম নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈদ্যুতিক বিপর্যয়সহ নানান কারণে লাশটি পচন ধরতে শুরু করেছে। এখন অবস্থা এমনি পর্যায়ে উপনীত হয়েছে লাশটি পুরোপুরি বিকৃত হয়ে গেছে।
এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো এক চিঠিতে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ ভারতে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার ওসি রমজান আলী বলেন, প্রবীর মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত লাশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি।