বিশ্বকাপ ফুটবলের ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব ১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিলের পরও রক্ষা পাচ্ছেন না ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। উয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইনফান্তিনো নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে, তাকে ভোটাভুটির মাধ্যমে ফিফা প্রধানের পদ থেকে অপসারণ বা বহিস্কার করবে ইউরোপের দেশগুলো। খবর দ্য টেলিগ্রাফ।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা নিশ্চিত করেছে, তাদের ৫৫টি সদস্য দেশই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুত। ফিফার সংবিধানে সভাপতিকে পদচ্যুত করতে ৪৩টি দেশের সমর্থনই যথেষ্ট, সেখানে উয়েফার হাতেই রয়েছে ৫৫টি ভোট।
‘গোপন আঁতাত ও স্বচ্ছতার অভাব’
শনিবার সকালে প্রকাশিত বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আস্থা সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে। বিবৃতিতে উয়েফা উল্লেখ করে, “গোপন ছক একে, অজানা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থে ফুটবলের আত্মাকে বিক্রি করার এই চক্রান্তের বিচার হতে হবে। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে সভাপতি হওয়ার সময় যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি ভেঙেছেন। ফিফার ব্যাংকে ৫ বিলিয়ন ডলার অলস পড়ে আছে, অথচ তিনি ফুটবলের ‘পারিবারিক সম্পদ’ বিক্রি করতে বেরিয়েছিলেন।”
উয়েফার সঙ্গে সুর মিলিয়ে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা ‘কনকাকাফ’ এবং ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) এই অনাস্থার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। কনকাকাফ একে ‘নেতৃত্ব ও শাসনের চরম অযোগ্যতা’ বলে বর্ণনা করেছে।
কর্মচারীদের বিদ্রোহ: ‘কিল দ্য মনস্টার’
ফিফা সদর দফতরের ভেতরের পরিস্থিতিও এখন বেশ উত্তপ্ত। ফিফার ভেতরের কর্মীরা এই আন্দোলনকে আখ্যা দিয়েছেন ‘কিল দ্য মনস্টার’ (দানবকে বধ করো) অভিযান হিসেবে। ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের নীতি ও সিদ্ধান্তহীনতার বিরুদ্ধে ফিফা প্রশাসনের ভেতরেও এক ধরণের নীরব অভ্যুত্থান দেখা দিয়েছে।
ইনফান্তিনোর পক্ষে কেবল কাতার
বিশ্ব ফুটবলের অধিকাংশ পরাশক্তি ও মহাদেশীয় জোট যখন ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে একাট্টা, তখন ব্যতিক্রম কেবল কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কিউএফএ)। সংস্থাটির সভাপতি শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ঐক্য ধরে রাখতে ইনফান্তিনোর এই সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা সভাপতির বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রসারের চেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়।”
তবে কাতার বা দু-একটি দেশের সমর্থনে রক্ষা পাবেন কিনা ইনফান্তিনো, তা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার গভর্নিং বডি ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।