ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই রেলের কর্মীদের থাপড়াতে শুরু করেন যুবদল নেতা


September 14, 2026 10:45 pm
Link Copied!


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোন না ধরায় কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ও বুকিং ক্লার্ককে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনা ঘটে। এতে আড়াই ঘণ্টা টিকিট কাউন্টার বন্ধ রাখা হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

মারধরের শিকার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলপথে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন। অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম নাজমুল হুদা সানি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত তিতাস কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৫টায় জেলার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে যাত্রী নিয়ে কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উদ্দেশে ট্রেনটি আবার ছেড়ে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া ৭৫ টাকা। ট্রেনটি সরকারি হলেও চলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। এই ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য কার্যক্রম চলে ইজারার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিতাস কমিউটার ট্রেনের বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ কক্ষ থেকে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের উদ্দেশে রওনা হন। যাওয়ার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন কালোবাজারি টিকিটের জন্য তাকে মারধর ও হেনস্তা করেন। পরে তিতাস কমিউটার ট্রেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কিছুক্ষণ কাউন্টার বন্ধ করে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ও বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন।

তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে ফোন করে দুটি টিকিট চান যুবদল নেতা সানি (নাজমুল হুদা)। টিকিটের জন্য তার দুজন লোক পাঠাবেন বলেও জানান। কিছুক্ষণের জন্য কাউন্টার বন্ধ আছে, এখন টিকিট দেওয়া অসম্ভব; তাই লোককে পরে পাঠাতে বলে বুকিং ক্লার্ক ফোন রেখে দেন।’

মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনে এসে কাউন্টার থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন সানি। এগিয়ে গিয়ে আমি এর কারণ জানতে চাই। তিনি তখন আমাকেও চড় মারেন আর বলতে থাকেন, “ফোন ধরিস না কেন।” পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। নিরাপত্তাহীনতায় আমরা বেলা ২টা পর্যন্ত কাউন্টার বন্ধ রাখি। সানি ভাই প্রায়ই লোক পাঠিয়ে টিকিট নেন।’ 

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা নামজুল হুদা সানি বলেন, ‘ট্রেনের লোকজনকে অনেক মাস ধরে বলা হচ্ছে, বাইরে যেন টিকিন না বিক্রি করে। তারা ৭৫ টাকার টিকিট বাইরে বেশি দামে কালোবাজারিসহ নিজের লোকের কাছে ১৫০ টাকা করে বিক্রি করে। বাইরে সেই টিকিট ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কালোবাজারের লোকদের কাছে টিকিট বিক্রির বিষয়ে চাপ দেওয়ায় আজ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়।’

তার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন কেউ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনে নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে, এতে আমাদের কী করার আছে। আমরা বেশি দামে বাইরে টিকিট বিক্রি করি না, তার অভিযোগ সত্য নয়।’

তবে রেলের দুজন কর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশিপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন সানি। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, ‌‘তারা এসে রেলের দুজন কর্মীকে চড়থাপ্পড় মেরে চলে যান। পরে তিতাস কমিউটারের লোকজন কাউন্টার বন্ধ করে ফেলেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঢাকায় কথা বলে কাউন্টার খুলে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ভুক্তভোগীরা এখনও থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html