নাটোরের লালপুরে পদ্মার পানি বাড়ায় তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে চরের কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মার পানি বাড়ায় বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওশারা সুলতানপুর, চাকলা বিনোদপুর, দিয়াড় শংকরপুর, আরাজি বাকনাই, রসুলপুর ও মোহরকয়া আংশিকসহ অন্তত ১৮টি চর প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। কেউ কেউ গবাদিপশু নিয়ে পানির মধ্যেই বসবাস করছেন।
পদ্মার চরের ফসলি জমিতেও পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে মুলা, বেগুন, সীমসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির খেত। অনেক কৃষক নৌকা ও ভেলায় করে ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার ভাঙনও তীব্র হয়েছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওশারা সুলতানপুরে প্রায় ৫০টি বসতঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমি।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার চরে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, সাত হেক্টর সবজি এবং ৬০ হেক্টর বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, পদ্মাচরের প্রায় সব জমির ফসলই তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের কৃষক জমির আলী বলেন, ইলিশমারি চরে তার ১০ বিঘা জমিতে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে কলা চাষ করেছিলেন। প্রায় প্রতিটি গাছেই কাঁদি এসেছিল। হঠাৎ পানি বাড়ায় পুরো কলাবাগান ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে গাছগুলো বাঁচানো সম্ভব হবে না।
কৃষক মুনতাজ আলী ও আলাল সরদার জানান, ঋণের টাকা নিয়ে শীতের শুরুতে বিক্রির আশায় মুলা, সীম ও বেগুন চাষ করেছিলেন। কিন্তু পদ্মার পানিতে সবজি খেত ডুবে গেছে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, আকস্মিকভাবে পানি বাড়ায় চরের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনও দেখা দিয়েছে। নওশারা সুলতানপুর, দিয়াড় শংকরপুর, চাকলা বিনোদপুর ও রসুলপুর চরের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৬ মিটার ছিল। আগের দিনও একই উচ্চতায় ছিল। নতুন করে পানি না বাড়ায় আতঙ্কের কারণ নেই।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবির হোসেন বলেন, নওশারা সুলতানপুর চরের ৩০টি পরিবারকে ইতোমধ্যে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।