১৯৮৬ সালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ‘আমরা মোহামেডান’-এর প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণগঞ্জের হাবিবুর রহমান হাবিব ক্লাবকে একটি বাস উপহার দিয়েছিলেন। সেই বাসে চড়ে বছরের পর বছর অনুশীলন ও ম্যাচ খেলতে স্টেডিয়ামপাড়ায় এসেছেন মোহামেডানের অসংখ্য খেলোয়াড়। সময়ের সঙ্গে বাসটি অচল হয়ে পড়ে। কয়েক বছর ধরে সেটির পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে নতুন বাস।
তবে পুরনো সেই বাসটি দীর্ঘদিন ক্লাব আঙিনায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকার পর গত রাতে রেকার দিয়ে বাইরে নেওয়া হলে সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হতাশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাসটি বিক্রি না করে সংরক্ষণের আবেদন জানান। তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর অবশ্য ক্লাব কর্তৃপক্ষও অবস্থান বদলেছে। জানানো হয়েছে, বাসটি বিক্রি করা হচ্ছে না; সংস্কারের জন্যই বাইরে নেওয়া হয়েছে।
এই বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোহামেডানের দীর্ঘ ইতিহাস। স্থানীয় তারকাদের পাশাপাশি ক্রিকেটার অর্জুনা রানাতুঙ্গা, সনাৎ জয়াসুরিয়া, বিশ্ব হকি তারকা শাহবাজ, কামরান আশরাফ, ফুটবলার এমেকা ইজিউগো, কোচ নাসের হেজাজিসহ অনেক তারকা এই বাসে চড়ে স্টেডিয়ামপাড়ায় এসেছেন।
মোহামেডানের পাঁড় সমর্থক টি ইসলাম তারিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে, এত ইতিহাস বুকে নিয়ে চলা একটি জিনিসকে আমরা কেন সংরক্ষণ করতে পারলাম না? ক্লাব কর্মকর্তারা চাইলে বাসটি যেভাবে ছিল, সেভাবেই রেখে দিতে পারতেন। ভবিষ্যতে বহুতল ভবন হলে ক্লাবের প্রবেশমুখে সেটিকে সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করা যেত। নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারতো।’
আরেক সমর্থক ওমর ফারুক লিখেছেন, ‘ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কর্মকর্তাদের চিন্তাধারা একেবারেই আদিম যুগের, বুঝা যায়। কর্মকর্তারা ইচ্ছা করলে এই বাসটিকে সংরক্ষণ করতে পারতো। এটি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। এটা তো বিক্রি করা ঠিক হয়নি।’
মোহামেডান ও জাতীয় দলে খেলা শরীফও বাসটি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের এই বাসটি আপনারা ফিরিয়ে আনুন। এই বাসটির প্রতি মোহামেডানে যেসব খেলোয়াড় খেলেছে, তাদের মায়া, ভালোবাসা ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এ বাসটি ফিরিয়ে আনুন। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কত টাকা এদিক-ওদিক খরচ হয়ে যায়, এ বাসটি বিক্রি করে কয় টাকা বা হবে? স্মৃতি-ভালোবাসা বিক্রি করে দিয়েন না, প্লিজ বাসটি ফিরিয়ে আনুন।’
তবে সমর্থকদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। বাসটি বিক্রি নয়, সংস্কারের জন্যই বাইরে নেওয়া হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আসলে পুরোনো বাসটি আমরা বিক্রি করছি না। বাসটির সংস্কার করার জন্য বাইরে নেওয়া হয়েছে। এমনিতে বাসটির চাকা সহ অনেক কিছু নষ্ট। ওখান থেকে সরানো যাচ্ছিল না। এখন আমরা বাসটির চাকা ও অন্য কিছু ঠিক করে আবার আগের জায়গায় নিয়ে আসবো।’
ঐতিহাসিক বাসটিকে ভবিষ্যতে ক্লাবের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা চাইছি ঐতিহ্যবাহী বাসটিকে ঠিকঠাক করে হেরিটেজ হিসেবে রেখে দেবো। অনেকটা জাদুঘরের মতো। এছাড়া আর একটি বিষয়—আমাদের তো জায়গা সংকট আছে। এটাও ভাববার বিষয় আছে।’
পরে অবশ্য আজ সমালোচনার মুখে বাসটি আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।