ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্যাকেজে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসে বিরল দ্বিদলীয় সমর্থনে বিলটি পাস হওয়ার কয়েক দিন পর শুক্রবার এতে সই করেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬ নামের আইনটি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে এক বছরের বেশি সময় ধরে আইনটি নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে যৌথভাবে বিলটি তৈরি করেন গ্রাহাম।
আইনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ধনকুবের, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের পাঁচ বৃহৎ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ দুই আমদানিকারক চীন ও ভারতের ওপর। একই আইনে ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।
গত মাসে সিনেটে এবং বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ৫৮ জন ডেমোক্র্যাট দলীয় অবস্থান অতিক্রম করে এর পক্ষে ভোট দেন। দুই বছরের বেশি সময় পর এটি ইউক্রেন-সংক্রান্ত প্রথম বড় বিল, যা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হলো।
আইনটির সমর্থকদের দাবি, এর লক্ষ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমিয়ে পুতিনকে আলোচনায় বসতে চাপ দেওয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আইনটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার বলে অভিহিত করেছেন।
তবে সব ডেমোক্র্যাট এই আইনের পক্ষে ছিলেন না। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়াতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞার বিধানে ফাঁকফোকর রয়েছে।