ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা পাবেন কবে থেকে?

UttorbongoBD
June 14, 2026 9:15 am
Link Copied!


দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। কয়েক দিনের ব্যবধানে হাজার হাজার গ্রাহক নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে না পারায় ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। নগদ অর্থের সংকট, এটিএমে টাকা না থাকা, আরটিজিএস সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বড় অঙ্কের চেক সম্মান না করা এবং পে-অর্ডার বাউন্স হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রকাশ্যে আশ্বাস দিতে হয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা দেবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কেবল একটি ব্যাংকের সাময়িক তারল্য সংকট, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব? আর এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

শাখায় টাকা নেই, এটিএমেও নগদ সংকট

গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন থেকে ইসলামী ব্যাংকের অনেক শাখায় নগদ অর্থের সংকট শুরু হয়। ১০ জুন মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকরা চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেননি। কোথাও ১০ লাখ টাকার চেকের বিপরীতে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ১১ জুন থেকে। বিভিন্ন জেলার গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, অনেক শাখা বড় অঙ্কের চেক গ্রহণই করেনি। কিছু শাখা পে-অর্ডার দিয়ে গ্রাহকদের সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোও সম্মানিত হয়নি।

রাজধানী থেকে শুরু করে হবিগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলনে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বহু গ্রাহক এটিএম বুথেও টাকা পাননি।

চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংকটের সূত্রপাত

বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ।

গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক, আন্দোলন ও বিক্ষোভ।

‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের পরিচালনায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হচ্ছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

অপরদিকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চেয়ারম্যান নিয়োগ ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক এবং একটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড সচল রাখতেই তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমানত প্রত্যাহারের হিড়িক

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন ও বিতর্ক শুরু হওয়ার পর মাত্র সাত দিনে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকার আমানত তুলে নেওয়া হয়েছে।

৩১ মে ব্যাংকটির মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। ৭ জুন তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার ১৪১ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়েছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিকভাবেই নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আতঙ্কজনিত অর্থ উত্তোলন।

ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ব্যাংকটি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য আমানত প্রত্যাহারের চাপের মধ্যে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিরোধপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, সরকার ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ার অংশ।

অপরদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মতে, চেয়ারম্যান নিয়োগের মতো একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক ঘটনা নয়।

জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের সঙ্গে একটি রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

একই সুর শোনা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বলেছেন, খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।

২০১৭ সালের দখল বিতর্কের ছায়া

বর্তমান সংকটের পেছনে ইসলামী ব্যাংকের অতীত ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয় সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৯৫ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, এস আলম সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতর্ক এবং খেলাপি ঋণের বিশাল বোঝা ব্যাংকটির ভিত্তিকে আগেই দুর্বল করে রেখেছিল। বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিরোধ সেই দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব অন্য যেকোনো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের প্রায় অর্ধেকই ইসলামী ব্যাংকের হাতে। ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।

রেমিট্যান্স আহরণেও প্রতিষ্ঠানটির আধিপত্য রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ব্যাংকটি। শুধু গত মে মাসেই ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের অন্যান্য নয়টি ইসলামী ব্যাংকের সম্মিলিত রেমিট্যান্সের কয়েকগুণ বেশি।

ব্যাংকটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়ছে প্রভাব

ব্যাংকাররা আশঙ্কা করছেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো ইসলামী ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিনের মতে, ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রাহকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হতে পারে যে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অন্য ইসলামী ব্যাংক থেকেও আমানত প্রত্যাহার শুরু হতে পারে।

ইতোমধ্যে সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, এক্সিম ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বড় পরীক্ষা

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছে।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকটির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল তারল্য সহায়তা দিয়ে আস্থার সংকট কাটানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিচালনা, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

সামনে কী হতে পারে

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকট কেবল একটি ব্যাংকের নগদ অর্থ সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের আস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক সুশাসনের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় স্বল্পমেয়াদে তারল্য সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

কারণ ব্যাংকিং খাতে মূলধনের চেয়েও বড় সম্পদ হলো বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ, রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন, খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার সক্ষমতার ওপর।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html