বিরোধী দলের নারী সদস্যদের পোশাকের দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা সংসদকে আর মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না। সংসদের ভেতরে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রেম তো একদিক থেকে হয় না। ভালোবাসা বিনিময় করতে হয় দুই দিক থেকে। এর মূল দায়িত্ব সরকারি দলের। তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তারা দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ-জাতি ও সংসদ ভালো চলবে, সরকার টিকে থাকবে, দেশের জন্য ভালো কিছু করা যাবে। আর যদি সংসদে উল্টাপাল্টা কথা হয়, তাহলে দায়িত্ব আমরা একা নিতে পারবো না। তখন আমাদের ওই পথে হাঁটতে হবে, যে পথে হাঁটলে হুঁশ ফিরে আসবে তাদের। হাতে বেশি সময় নেই। সরকারকে পরিশুদ্ধ হবার পরামর্শ দিচ্ছি। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বার্থে অহেতুক বিতর্কের জন্ম না দেওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছি।’
রবিবার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে রুমিন ফারহানাকে নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিরও সমালোচনা করেন তিনি।
সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় এই নেতা বলেন, ‘সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।’ সরকারি দল ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতিকে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভালো থাকবে। নির্বাচন ভালো হলেই শাসক ভালো হবে, এর প্রমাণ নেই।’
সীমান্তে উত্তেজনা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সংসদে নোটিশ দিয়েছি। এ নিয়ে রবিবারের কার্যতালিকায় আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার ওই নোটিশ প্রত্যাহার করে আনুষ্ঠানিক আরেকটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে কার্যতালিকায়। সেটি প্রত্যাহার করা হোক। আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে, এই আলোচনাটা আপাতত না করার জন্য। এ নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি আমাদের। ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই-দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কি? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনও আপস করব না।’
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে অনেক কিছু ওয়েভার এসেছে। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কিনা, এই দুটি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নেই বাজেটে। এ দেশে এক কোটি মানুষ ট্যাক্স দেওয়ার মতো আছেন, তাহলে শুধু ৩৪ লাখ কেন? কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন থেকে গেছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ন্যায়বিচার কায়েম না হলে বাজেট কোনও কাজে লাগবে না।’
এর আগে দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জামায়াতের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির। ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী গত শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ইন্তেকাল করেন।