বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল বলেছেন, “বন্ধুত্বের বার্তা দিতে চাইলে অবিলম্বে ভারতকে পুশইন ও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।” তার মতে, “ভারত এই পর্যন্ত সৎ প্রতিবেশীর পরিচয় দিতে পারেনি।”
রবিবার (১৪ জুন) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, “বিএনপি সরকারের কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে শ্রমিক-কৃষকের বিশেষ জায়গা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল না হলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কোনও চুক্তি করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে। নির্বাচনের পর প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ধারায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সুযোগ কোনভাবে নষ্ট করা যাবে না।”
তিনি বলেন, “বিএনপি সরকারের কথিত অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেটে দেশের প্রধান উৎপাদক শ্রেণি শ্রমিক-কৃষকদের বিশেষ কোনও যায়গা হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল হলেও শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের খবর নেই। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়নি।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্য চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বলেন, “এই চুক্তি বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের আদেশনামা। এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ অপরাপর কোনও দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতাসহ স্বাধীনভাবে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না।” তিনি সংসদের চলতি অধিবেশনে আলোচনা করে এই অন্যায় চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি সমতা, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তি বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে এগিয়ে আসতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, “জনপ্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সরকারকে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “নির্বাচিত সরকারের আমলেও মানুষের জানমাল, জীবন-জীবিকা এখনও নিরাপদ হয়নি। নারী শিশুরা এখনও পাশবিক নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা-ধর্ষণের শিকার।” এই অবস্থা চলতে পারে না বলেও জানান তিনি।
পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুল ইসলাম, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, রেজাউল আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক জামাল সিকদার, বাবর চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নেতাকর্মীরা। এরপর পার্টির একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, তোপখানা রোড, বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।