এল সালভাদরের বিতর্কিত জরুরি অবস্থার আওতায় আটক ব্যক্তিদের স্বজনেরা শনিবার সান সালভাদর মেট্রোপলিটন ক্যাথিড্রালে জড়ো হয়ে কারাগারে মারা যাওয়া বন্দীদের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা ন্যায়বিচারের দাবিও তুলেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা হলুদ ও লাল ফুল, ব্যানার এবং কারাবন্দি স্বজনদের ছবি নিয়ে সেখানে আসেন। রাজধানীর ক্যাথিড্রালের ভেতরে সন্ত আর্চবিশপ অস্কার আর্নুলফো রোমেরোর সমাধির চারপাশে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন তারা এবং সেখানে ফুল রাখেন। ক্যাথিড্রালের সিঁড়িতে মৃতদের সম্মান জানিয়ে ও এখনও হেফাজতে থাকা স্বজনদের স্মরণ করে সমাবেশ করেন তারা। উপস্থিত অনেকে গ্রেফতারের পর থেকে আটক স্বজনদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি। কিছু ক্ষেত্রে তারা জানেনই না, স্বজনেরা বেচে আছেন কি না।
পূর্বাঞ্চলীয় উসুলুতান প্রদেশের পুয়ের্তো এল ত্রিউনফোর ৬১ বছর বয়সী কৃষক নাটালিয়া ফুনেস কারাবন্দি ছেলের বিষয়ে উত্তর পাওয়ার আশায় এসেছিলেন। তার ছেলে অস্কার ওরল্যান্ডো রদ্রিগেজ ২০২২ সালের জুলাইয়ে গ্রেফতার হন এবং তখন থেকে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগহীন অবস্থায় আছেন।
ফুনেস বলেন, আমি এক বিধ্বস্ত মা, যে মা কখনও ছেলেকে দেখেনি। আমি এমন এক মা, যে কখনও তার মুখ দেখেনি বা কণ্ঠ শোনেনি। চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ৯০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে।
শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ক্রিস্তোসাল জানিয়েছে, জরুরি অবস্থায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সালভাদরের কারাগারে ৪৫৪টি মৃত্যুর তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে। এখনও আটক থাকা অনেকের স্বজন আশঙ্কা করছেন, তাদের প্রিয়জন এ পরিসংখ্যানের অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন হয়ে উঠবেন।
কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকান দেশে ১ ও ২ নভেম্বর পালিত মৃতদের দিবসকে সামনে রেখে বিক্ষোভকারীরা কারাগারে মৃতদের স্মরণ করেন। একই সঙ্গে এখনও আটক বন্দীদের ন্যায্য বিচারের দাবি জানান। মাদার্স ফর ফ্রিডম আন্দোলনের মুখপাত্র ৪৪ বছর বয়সী লিলিয়ানা উরিয়াস বলেন, আন্দোলনের কিছু সদস্য ছেলে, ভাই কিংবা সন্তানদের বাবাকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থায় মারা যাওয়া সব নিরপরাধ মানুষের স্মৃতিতে আমরা এখানে এসেছি।