সাংবিধানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে উচ্চ কক্ষ গঠন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদকে সাংবিধানিক করা এবং প্রশাসন সংস্কারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘অষ্টম নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা’য় তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। গত রবিবার (১২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মঞ্জুর এলাহী’ অডিটোরিয়ামে ‘সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তৃতায় অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য সাধারণ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদ সদস্য নয়, বরং উচ্চ কক্ষে আসন বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। সংবিধান সংশোধন, সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব এবং অর্থ বিল ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
তিনি বলেন, আইন প্রণেতাদের স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না হওয়াই সমীচীন। আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদকে সাংবিধানিক করা এবং সব সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।
প্রশাসন সংস্কারে একটি দক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের সুপারিশ করে ফরাসউদ্দিন বলেন, রাজধানী ঢাকার আশপাশের শহরতলিকে উন্নত করে দিল্লির আদলে একটি মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ গঠন প্রয়োজন। পাশাপাশি কর-রাজস্ব আহরণে অটোমেশন, প্রশাসনে নিরপেক্ষ পদায়ন এবং আইনের ন্যায়সংগত প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রয়াত নেহরীন খানের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খানের কন্যা এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী নেহরীন খানের স্মরণে প্রতিবছর এ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।